০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষে লন্ডনে গীতি-আলেখ্য

১৯২৬ সালে শান্তিনিকেতন থেকে নবমবারের মতো সপরিবারে বিদেশ সফরে যাত্রা করেন রবীন্দ্রনাথ।

আনসার আহমেদ উল্লাহ

লন্ডন থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 11:53 AM

Updated : 03 Nov 2026, 11:53 AM

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে লন্ডনে পরিবেশিত হয়েছে গীতি-আলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’।

‘গীতবীণা’, ‘স্বাধীনতা ট্রাস্ট’ ও কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিন্টার স্টুডিওতে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজকদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘গীতবীণা’র প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক সরদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘স্বাধীনতা ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক ও কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালেস্টার ওয়েনস।

উপস্থাপক সুনীতা চৌধুরী ও রুমী হক যথাক্রমে বাংলা ও ইংরেজিতে গীতি-আলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ পরিবেশনার ঘোষণা দেন।

মূল সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সহ-সভাপতি ভ্যালেন্টাইন হার্ডিং রবীন্দ্রনাথের রচনা থেকে পাঠ করে শোনান। শুরুতে শ্যামল চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব প্রয়াত অরিজিৎ চৌধুরীকে স্মরণ করেন।

রবীন্দ্র-গবেষক পীতম সেনগুপ্তের ধারাবর্ণনা এবং গীতবীণার সদস্য রুমী হকের ইংরেজি অনুবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে গীতি-আলেখ্যটি। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণকালে রচিত একাধিক গান।

সমবেত ও দ্বৈত কণ্ঠের পরিবেশনায় অংশ নেন রুমী হক, মিতালী বনোয়ারি ও সুনীতা চৌধুরী। রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক নির্ধারিত রাগাংশ পরিবেশন করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সদস্য বুধাদিত্য ভট্টাচার্য। গানের সঙ্গে তবলায় সংগত করেন সন্দীপ চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আলোক প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলস।

৬৫ বছরে পদার্পণের পর ১৯২৬ সালের ১২ মে শান্তিনিকেতন থেকে নবমবারের মতো সপরিবারে বিদেশ সফরে যাত্রা করেন রবীন্দ্রনাথ। দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।

আয়োজকরা জানান, কবির এই দীর্ঘ সফর শুধু ভৌগোলিক পরিসরেই বিস্তৃত ছিল না, তার সৃজনশীল জীবনেও তা তাৎপর্য বহন করে। সফরকালে রচিত গানগুলোর মধ্য দিয়ে সেই সময়ের অনুভব, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় তুলে ধরাই ছিল গীতি-আলেখ্যটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গীতবীণার পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয় স্বাধীনতা ট্রাস্টের সভাপতি জামিল ইকবাল, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক শ্যামল চৌধুরী এবং পীতম সেনগুপ্তকে।