মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীর বেদনার কাব্য ‘যশোর রোড’
প্রায় ৯০ মিনিটের আয়োজনে আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান এবং গীতি আলেখ্য দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানটি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবন, যুদ্ধের অভিঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের স্মৃতি উঠে এল গীতি আলেখ্য ‘যশোর রোড’-এ।
মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ অবলম্বনে নির্মিত এই গীতি আলেখ্য পরিবেশন করেছে নরসিংদীর নাট্যদল ‘বাঁধনহারা’।
ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘২৭ ধানমন্ডি গাই বাংলার গান পর্ষদ’-এর উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক বেদনাবহ অধ্যায়, দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষের জীবন ও দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।
প্রায় ৯০ মিনিটের আয়োজনে আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান এবং গীতি আলেখ্য দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে সূচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন ২৭ ধানমন্ডি গাই বাংলার গান পরিষদের ফজলুল কবীর তুহিন।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে তৎকালীন আমেরিকান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার জনগণ আমাদের পাশে ছিল। তার প্রমাণ অ্যালেন গিন্সবার্গ ও তার এই অমর সৃষ্টি ‘যশোর রোড’। শুধু তাই নয়, আমেরিকার ম্যাডিসন স্কয়ারে কনসার্ট ফর বাংলাদেশও প্রমাণ করে আমেরিকার জনগণের মতের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল তৎকালীন সরকার। সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ায়, তার ফলাফল কখনো ইতিবাচক হতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে শরণার্থী শিবিরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা সত্যজিৎ মজুমদার। আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী ও মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার শরণার্থীর দুঃখ-কষ্টের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে উঠে আসে ইতিহাসের সেই বেদনাময় অধ্যায়ের নানা অনুষঙ্গ।
অনুষ্ঠানে অ্যালেন গিন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতার ইংরেজি আবৃত্তি পরিবেশন হয়। এটি আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী বেলায়েত হোসেন। এরপর কবিতাটির বাংলা অনুবাদ আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী লীনা।
এরপর দেশাত্মবোধক সংগীত ‘ও আমার দেশের মাটি’ পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা সেতু এবং ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ পরিবেশন করেন আমন্ত্রিত সংগীতশিল্পী।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দেখানো হয় গীতি আলেখ্য ‘যশোর রোড’।
এই পরিবেশনার নির্দেশনায় ছিলেন কামজ্জামান তাপু। নরসিংদীর নাট্যদল ‘বাঁধনহারা’ ৩৫ মিনিটের এই গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে।
