আন্দোলনে ‘ইস্পাতকঠিন’ গণঐক্য চান খন্দকার মোশাররফ

আরও লুটপাট করতে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2023, 02:50 PM
Updated : 16 Jan 2023, 02:50 PM

সরকার পতনের আন্দোলনে ‘ইস্পাতকঠিন’ গণঐক্য দেখতে চাইছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, “একটা কথা মনে রাখতে হবে- যেখানেই গণতন্ত্র, সেখানেই বিএনপির অবদান; আর যেখানে আওয়ামী লীগ, সেখানেই গণতন্ত্রকে হত্যা।

“তাই আজকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব নিতে হবে এদেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে- ইস্পাতকঠিন গণঐক্য সৃষ্টি করে আগামী দিনে সরকার বিদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে।”

সোমবার বিকালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১০ দফা দাবি আদায় এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপির পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি সব মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশের যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন খন্দকার মোশাররফ।

তার অভিযোগ, “কয়েকদিন আগে সরকার কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিদ্যুতের যে একটি কমিশন আছে- তাদের কোনো মতামত না নিয়ে, গণশুনানি না করে সরকার প্রশাসনিক হুকুমের মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং বলেছে যে, মাসে মাসে নাকি এই বিদ্যুতের দাম তারা সমন্বয় করবে। অর্থাৎ এই ৫ শতাংশ নয়, আরও ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম তারা বৃদ্ধি করবে।”

আরও লুটপাট করতেই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন ২০০৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যখন সরকার ছিল বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি যে সর্বোচ্চ দর ছিল ২ টাকা ৬০ পয়সা- এখন তা ১১ টাকার উপরে। কেন এই দাম করেছে?

“এই সরকার ক্ষমতায় এসে যেসকল বিদ্যুৎ ইউনিট মাত্র স্বল্পকালীন সময়ের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ভাড়া করে আনা হয়, সেসব রেন্টাল বিদ্যুৎ পাওয়ার তারা এদেশে স্থাপন করেছে এবং এই রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের মাধ্যমে যাতে তারা লুটপাট করতে পারে, সেজন্য পার্লামেন্ট থেকে ইনডেমনিটি পাস করেছে। ১৪ বছর ধরে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে লুট করেছে। এখনও যে দাম বৃদ্ধি- এটাও লুটপাট এবং অর্থপাচার করার জন্য করা হয়েছে।”

বিভিন্ন ‍কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে অর্থ লুট করে বিদেশে তা পাচার করা হয়েছে বলেও তার ভাষ্য।

ঢাকায় মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশের পর একটি মিছিল কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে ফকিরেরপুল মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়। এ কর্মসূচি ঘিরে নয়াপল্টনের বিভিন্ন গলিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

১০ দফা দাবিতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে- এটি তার তৃতীয় কর্মসূচি। গত ২৪ ডিসেম্বর ৯ বিভাগীয় শহরে এবং ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল ছিল প্রথম কর্মসূচি; আর দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে ১১ জানুয়ারি অবস্থান কর্মসূচি করে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের আমিনুল হকের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও আবদুস সালাম আজাদ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, রকিবুল ইসলাম বকুল, মাশুকুর রহমান মাশুক, মীর নেওয়াজ আলী, হুমায়ুন কবির খান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, ফরিদা ইয়াসমীন, সাইফুল আলম নিরব, আকরামুল হাসান মিন্টু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, মহানগর বিএনপির নবী উল্লাহ নবী, যুবদলের মামুন হাসান, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, রাজিব আহসান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, তাঁতী দলের কাজী মুনীরুজ্জামান মুনীর, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, উলামা দলের মাওলানা আবুল হোসেন, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক