স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়নি: কাদের

এবার রেকর্ড ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের নেতা, যারা দলের মনোনয়ন পাননি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2023, 09:28 AM
Updated : 3 Dec 2023, 09:28 AM

দলের মনোনয়ন না পেয়েও আওয়ামী লীগের যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বহিষ্কারের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “আমরা কি দলের পক্ষ থেকে বলেছি যে, যারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন, তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে? এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগে এখনো হয়নি।"

রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে কথা বলছিলেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির বর্জনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ, যা নিয়ে তাদের এখনও সমালোচনা শুনতে হয়। এবারও বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় সেরকম পরিস্থিতি এড়াতে আসনে আসনে ডামি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।  

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ঘোষণার দিন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বলেছেন, কোনো আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দেখতে চান না তিনি। এমনটি হওয়ার চেষ্টা হলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা উৎসাহের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সব মিলিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যে ২৭১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের ৭৪৭ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী।

তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যে এরকম থাকবে না, সে ইংগিতও এসেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে।

তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যে এরকম থাকবে না, সে ইংগিতও এসেছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ দুদিন আগেও বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর তারা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

রোববারের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "মোট ২৮টি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, বিএনপি একটা দল, এখন ৩২ দল, ৫৪ দল, সেইসব দলও তাদের সঙ্গে নেই। অনেকে তাদের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বিএনপি না হলে নির্বাচন অশুদ্ধ হয়ে যাবে, এক তরফা হয়ে যাবে কেন ? বিএনপির যে ভুয়া আন্দোলন, এ আন্দোলনের কারণ অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছে।”

নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া বিএনপি দফায় দফায় হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি দিয়ে চলেছে। কিন্তু মাঠে তাদের নেতাকর্মীদের দেওয়া মিলছে না খুব একটা। ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার হয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে কারাগারে, বাকিরাও আত্মগোপনে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নিয়মিত দলের কর্মসূচি ঘোষণা করছেন এবং অবরোধের সকালে তাকে অল্প কিছু নেতাকর্মী নিয়ে ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে।

সে প্রসঙ্গ ধরে রিজভীকে কটাক্ষ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, "আজকে তাদের ঝটিকা মিছিল করতে হয় অন্ধকারে। কুয়াশার মধ্যে হঠাৎ করে গুহা থেকে বেরিয়ে, শুরু করে দেয় মিছিল, কিছুক্ষণ পর আর নাই। পুলিশ দেখলে আবার চলে যায়। এদের বুকে সাহস নেই।"  

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তারেক রহমানকে বলব, সাহস থাকলে, রাজনীতি করতে চাইলে, সৎ সাহস থাকলে, আসুন মাঠে। আমার একটা রাজনৈতিক দল, আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ, কিন্তু আপনাদের আমরা শত্রু কখনো ভাবিনি। ষড়যন্ত্র করিনি। খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে যাইনি, জিয়াউর রহমানকে হত্যা করতে যাইনি, আমরা হত্যা রাজনীতি করি না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। সৎ সাহস থাকলে কেন আসেন না? লন্ডনে বসে বাংলাদেশে আন্দোলন করবেন, এ ভুলের রাজনৈতিক কারণে আপনারা কিছুদিন পর দলের নেতাকর্মীদেরকে হারাবেন।"

সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, "আজকে বিএনপির এক নেতা, অন্যদের তো খবর নেই, প্রকাশ্যে আসে না। বিএনপির একজন লোক, পেছনে দশ-বারো জন লোক নিয়ে ঝটিকা মিছিল করে। এটা কি আন্দোলন? এতে কি জনগণের সমর্থন আছে?

"বিএনপির অনেকেই নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তার প্রমাণ, তাদের দলে অনেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শুধু সমশের মবিন, তৈমুর আলম খন্দকার নয়, জেনারেল ইবরাহিম বীর প্রতীক সাহেব তাদের বলে ধারণা ছিল।"

ওবায়দুল কাদের বলেন, "আজকে অনেকেরই শুভ বুদ্ধি উদয় হয়েছে। অনেকে বিএনপির এই নেতিবাচক রাজনীতিতে জড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না। সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসতে তারা শুরু করেছে। যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে অনেক বড় বড় নেতাও আছে। শুধু শাহাজান ওমর নয়, অনেকে এসেছেন। তারা বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। আজকে বিএনপির রাজনীতিকে তারা প্রত্যাখ্যান করে রাজনীতির সুস্থ ধারায় ফিরে আসতে শুরু করেছেন। 

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সামনে বিএনপির অনেক নেতা এবং কর্মী এই অসুস্থ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসবে।"

বিএনপির হরতাল-অবরোধে নাশকতার প্রসঙ্গ ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "চোরাগোপ্ত হামলার জন্য বিএনপি নেতাকর্মী পাচ্ছে না। তাই ভাড়া করা টোকাই দিয়ে তারা হামলা করছে। তাদেরকে দিয়ে বোমা হামলা, পেট্রোল বোমা মারছে, এসব অপর্কম করছে।”

ভোটের আগে পুলিশ ও মাঠ প্রশাসনে রদবদলের প্রসঙ্গ ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, "স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। শৃঙ্খলাজনিত তাদের কোনো ব্যবস্থা, বা অন্য কোনো ব্যবস্থা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রান্সফার, এগুলো আওয়ামী লীগ করছে না, প্রধানমন্ত্রী করছে না, সবই নির্বাচন কমিশন করছেন।  ইউএনও ট্রান্সফার, ওসিদের ট্রান্সফার, ডিসিদের ট্রান্সফার, এই কাজগুলো আজ সরকারের কাজ নয়।  নির্বাচন কমিশন তারাই এসব বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।"

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।