বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে অন্য দলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই: ক্ষমতাসীনদের মেনন

“নির্বাচন সম্পর্কে জনমানুষের যে অনাস্থাবোধ-তা দূর করা যায়নি,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Feb 2024, 07:07 PM
Updated : 27 Feb 2024, 07:07 PM

বাজার কারসাজিতে কারা জড়িত তা সরকার জানে দাবি করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, “বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙার কোনো কারণ নাই।"

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে মেনন বলেন, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে অন্য দলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

“নিজের মানুষের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে গণ-বণ্টন ব্যবস্থার পূর্ণ রেশনিং চালু করার কথা বলেছিলাম। সরকারকে বিষয়টা আরেকবার বিবেচনার জন্য বললাম।"

দেশি-বিদেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন হলেও নির্বাচন নিয়ে মানুষের অনাস্থা দূর করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত মেনন।

তার ভাষায়, “নানা জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনটি হয়ে যাওয়া দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং অসাংবিধানিক ধারার বিরুদ্ধে বিশেষভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক বিজয়। তবে এ কথা সত্য যে, নির্বাচন সম্পর্কে জনমানুষের যে অনাস্থাবোধ- তা দূর করা যায়নি।

“কালো টাকার প্রভাব, বিশেষ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব, শহরাঞ্চলগুলোতে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। কিন্তু তা কোনোক্রমেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না।”

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, “আমাদের সামনে সাম্প্রতিক পাকিস্তানের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাকিস্তানের মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘লন্ডন ষড়যন্ত্র’ বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের নির্বাচনকেও একই পরিণতি বহন করতে হত।"

বর্তমান সংসদকে ‘বৈচিত্র্যপূর্ণ’ বর্ণনা করে তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের হার অনেক বেশি রয়েছে। ফলে নতুন নতুন রীতির সম্মুখীন হওয়া প্রাসঙ্গিক। এটার জন্য সংসদের জন্য সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়।"

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৪টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ১১টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এর বাইরে এবার ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে জিতেছেন, যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এরইমধ্যে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়েছে, যেখানে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কয়েক ধাপের এ ভোটকে সামনে রেখে জামানতের নতুন হার ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন।

মেনন বলেন, “রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলছেন। এ ব্যবস্থায় ধনীরা থাকবেন; মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষ নয়।

“সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানের জন্য জামানত ১ লাখ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যানে ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা করতে চাইলে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। না হলে উপজেলা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ হবে না।"