Published : 11 Feb 2025, 05:32 PM
ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে ভোট চলছে ১৩৯ উপজেলায়, যেখানে ভোটারদের কেন্দ্রে আনা আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই নির্বাচন কমিশনের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকাল ৮টায় নির্ধারিত সময়েই এসব উপজেলার ১১ হাজার ৫৫৬টি কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়েছে, যা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
গাজীপুরসহ কয়েকটি জেলায় ভোটের সকালে বৃষ্টি থাকায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে কম। এ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন অনেক প্রার্থী।
এই ধাপে ভোটার আছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০২ জন। মোট ১ হাজার ৬১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে তারা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
১৩৯ উপজেলার মধ্যে ২২টিতে ইভিএমে ও বাকিগুলোতে প্রচলিত ব্যালট পেপারে ভোট হবে।
দুর্গম এলাকার ৪২৪ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের মঙ্গলবারেই ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। আর ১১ হাজার ১৩২ কেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছানো হয়েছে বুধবার সকালে। নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করে চার মাসের মাথায় দেশজুড়ে উপজেলার এ ভোট হচ্ছে। এ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য 'সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে' জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ভোটে প্রভাব বিস্তার রোধে 'সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে'।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর কৌশলে উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন বা প্রতীক দেয়নি। ফলে এ নির্বাচনে নৌকার কোনো প্রার্থী নেই, যদিও প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতা, তারা ভোট করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে।
জাতীয় নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি স্থানীয় সরকারের ভোট বর্জনের সিদ্ধান্তেও অটল। তবে এই ধাপে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের ৮০ জনের মত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি দলীয় প্রতীক দিলেও প্রথম পর্বের ভোটে তাদের প্রার্থী কেবল ৪ জন। এর বাইরে জেপির দুইজন, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের প্রার্থী একজন।
এ অবস্থায় ভোটের হার কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সাবেক পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, “আওয়ামী লীগেরও দলীয় প্রার্থী নাই। সেই হিসাবে আওয়ামী লীগও রাজনৈতিক দল হিসেবে এই নির্বাচনটা বয়কট করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছে। তার মানে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগই। ফলে এক শ্রেণির মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। সেক্ষেত্রে ভোটের হার ২০১৪ বা ২০১৯ সালের চেয়ে কমে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি।”
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আগের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গড়ে ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সবশেষ ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৪১ শতাংশের বেশি।
• এই ধাপে প্রার্থী রয়েছেন মোট ১ হাজার ৬১৯ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৬৫, ভাইস চেয়ারম্যান ৬১৯ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
• এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৮, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ করে অর্থাৎ মোট ২৮ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
• প্রথম ধাপে ১৩৯ উপজেলায় ১১ হাজার ৫৫৬ কেন্দ্রের ৮১ হাজার ৮০৪ ভোট কক্ষে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
• এর মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ৬০ লাখ ২ হাজার ২২৪, নারী ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯০ এবং ১৮৮ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ এলাকায় (পার্বত্য ও দুর্গম এলাকা) সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ থেকে ২১ জন সদস্য মোতায়েন থাকছেন।
এ ছাড়াও উপজেলার আয়তন, ভোটার সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতি উপজেলায় ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবেন। উপকূলীয় এলাকার দ্বীপাঞ্চলে কোস্টগার্ড, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্রে আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিন নিয়োজিত থাকবেন।
মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত বোটসহ (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) অন্যান্য যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
ভোটগ্রহণের সাত দিন আগে ও ভোটগ্রহণের পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত লাইসেন্সধারীরা যাতে অস্ত্রসহ চলাচল কিংবা বহন ও প্রদর্শন না করেন সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
যা কিছু নতুন
নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আচরণবিধি সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ করেছে। এতদিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ২৫০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের যে তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হত, এবার তা দিতে হয়নি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো সাদাকালোর সঙ্গে রঙিন পোস্টারও ছাপাতে পেরেছেন প্রার্থীরা। তবে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবার।
চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।
প্রথমবারের মত অনলাইনেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়েছে সব প্রার্থীকে।
প্রথম ধাপের পর ২১ মে দ্বিতীয়, ২৯ মে তৃতীয় এবং ৫ জুন শেষ ধাপের ভোট হবে।
যেসব উপজেলায় ভোট
**এই তালিকা থেকে সরিষাবাড়ী ও নাঙ্গলকোট উপজেলা বাদ পড়েছে।
পুরনো খবর
কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ, প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম যেন না হয়: সিইসি
কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ, প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম যেন না হয়: সিইসি
নতুন অভিজ্ঞতায় উপজেলার ভোট, সাড়া মিলবে তো?
দুয়েকটি ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে: সিইসি