গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি চুন্নুর

“সামনে রমজান, বিদ্যুতের দাম, গ্যাসের দাম বাড়ায় একটা অসহনীয় অবস্থা হবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Feb 2024, 07:10 PM
Updated : 27 Feb 2024, 07:10 PM

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “সামনে রমজান, বিদ্যুতের দাম, গ্যাসের দাম বাড়ায় একটা অসহনীয় অবস্থা হবে। আমি আমাদের দলের পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করব অন্ততপক্ষে গ্যাসের দাম এবং বিদ্যুতের দামটা এ মুহূর্তে বৃদ্ধি করবেন না।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে সর্বনিম্ন ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে, যা আসছে মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

একই দিনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাসের দাম ইউনিট প্রতি ৭৫ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির নেতা চুন্নু সংসদে বলেন, “মানুষ একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে আছে। বাজারে গেলে সাধারণ মানুষ… দ্রব্যমূল্যের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সুপারভিশনও নাই। মানুষ খুব অসহনীয় জীবন যাপন করছে।

“এই অবস্থার মধ্যে মাত্র নির্বাচনটা গেল, আজকেই দেখলাম সরকার বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছেন। কারণটা বলেছেন ডলারের ডিভ্যালুয়েশন এবং ভর্তুকি কমানো। আপনারা যে বাড়াবেন, বলছেন ভদ্রভাষায় সমন্বয়। মানে বৃদ্ধি কথাটাও সরকার বলে সমন্বয় করা, কিন্তু আসলে মূল্যবৃদ্ধি।”

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, “আমরা জানি না বিদ্যুতের পার ইউনিট সরকারের উৎপাদন বা কিনতে খরচ কত হয় গড়ে। সব সময় বলে আসছেন হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকি কমাতে হবে। আগামী তিন বছরে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কমাবেন। কমাবেন কমান। বিদ্যুতের দাম বাড়া মানে এর সাথে অনেক জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে।

“গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছেন। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ অনেক ফ্যাক্টরি যেগুলো গ্যাস নির্ভর, সেখানে গ্যাস দিতে পারছেন না সার্বক্ষণিক। সেখানে আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছেন।”

তিনি বলেন, “সরকার একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসুক, মানুষ একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসুক, ইকোনমি একটা নরমাল অবস্থায় আসুক, তখন আপনারা চিন্তা করেন। এখন অন্তত চিন্তাটা বাদ দেন। মূল্যবৃদ্ধিটা প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ রাখছি।”

সিন্ডিকেট ‘শক্ত হাতে’ দমন করার আহ্বান

বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কী করে হয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সরবরাহের অভাব নেই। যেটা হচ্ছে সেটা সিন্ডিকেট, এটা চিহ্নিত, এটার ওপর প্রতিবেদন আছে।

“ভোক্তা অধিদপ্তরের বৈঠকে মাংসের দাম কমানোর বৈঠকে তারা মাইর-পিট করেছিল। কোনো দোকানদার কম দামে বিক্রি করলে সরবরাহকারী সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এত শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কি করে তারা সরকারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। সরকারের সংস্থা জানে কারা করছে। রোজার সময় সিন্ডিকেট দাম বাড়াবে, যদি সরকার শক্ত হাতে তাদের দমন না করে। “  

বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, “সিন্ডিকেট এখন এত শক্তিশালী হয়ে গেছে, তারা প্রত্যেক দিন সকালে মোবাইলের মাধ্যমে দাম চূড়ান্ত করে দেয়। চিনি, ডিম, তেল, মাংস এবং তাজা শাকসবজির দামও বৃদ্ধি করে দেয় তারা।

“এটার ওপর গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদন আছে। তারা জানে কারা করছে। কিন্তু কোনো অ্যাকশন হয়েছে তা আমরা এখনো দেখিনি। কোথাও দেখা যায়নি কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

রোজা সামনে রেখে কয়েকটি নিত্যপণ্যের শুল্ক কমানোর পরও বাজারে তার প্রভাব না পড়ায় হতাশা প্রকাশ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “আশা ছিল জিনিসপত্রের দাম কমবে। দাম কমেনি। বরং কিছুদিন আগে হঠাৎ করে চিনির দাম বাড়িয়ে দিল।

“অবশ্য সন্ধ্যায় তারা বাতিল করেছিল। কিন্তু সেটার সুযোগ নিয়ে চিনির সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে ১৬০ টাকা প্রতি কেজিতে নিল। অথচ পাশের দেশ ভারতে চিনির দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকা। সেখানে ডলারের মূল্য ধরলে এটা ৭০ টাকার বেশি ওঠে না। পাশের দেশে যেখানে ৭০ টাকা, এখানে ১৬০ টাকা হওয়ার কোন কারণ নেই।