গত ৭ ডিসেম্বর নয়া পল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তারা কারাগারে আছেন।
Published : 19 Dec 2022, 07:09 PM
রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের জামিন আবেদন তৃতীয়বারের মত নাকচ হয়ে গেছে।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন সোমবার শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান।
আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী আসামিদের জামিন চেয়ে বলেন, “শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর হৃদযন্ত্রে সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে। বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।
“আর আবদুস সালাম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিজয়ের মাসে আজ তিনি কারাগারে। তাদের অবদানের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের বিচার বিভাগে শুনানি করতে পারছি।”
মহিউদ্দিন চৌধুরী আসামিদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রও আদালতে জমা দেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কমকর্তা এস আই শাহ আলম।
তিনি বলেন, “মামলার ধারা জামিন অযোগ্য। আর আসামিদের কারাবাস স্বল্প দিনের। তাই জামিন আবেদন নাকচ করা হোক।”
রিজভীসহ বিএনপির ১৪৬ নেতাকর্মীর জামিন মেলেনি
নয়া পল্টনে সংঘর্ষ: ২৩ জন রিমান্ডে, কারাগারে ৪৫১
আরও চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হল রিজভীকে
বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ৭ ডিসেম্বর বিকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। তাতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান; আহত হন অনেকে।
পরে বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ, গ্রেপ্তার করা গয় কয়েকশ নেতাকর্মীকে।
গ্রেপ্তার ৪৫০ জনের মধ্যে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান ও আব্দুল কাদের জুয়েলকে পরদিন জামিন দেয় আদালত। তবে এ্যানী ও সালামসহ ৪৩৪ নেতাকর্মীর জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এছাড়া ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। রিমান্ড শেষে ইতোমধ্যে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সমাবেশের আগের দিন ভোরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের পল্টন থানার সংঘের্ষের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের জামিন আবেদন এ পর্যন্ত তিন দফা নাকচ করা হয়েছে।