বাইডেনের চিঠি নিয়ে ‘গুলগুলা ভাব’ হওয়ার দরকার নাই: মান্না

“শেখ হাসিনার সরকার খুব চালাক-চতুর তো, দুই দিকে খেলার চেষ্টা করে। আমরা বলছি, খেলতে খেলতে এই খেলা শেষ হয়ে যাবে”, বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 11:51 AM
Updated : 5 Feb 2024, 11:51 AM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি পাঠানো নিয়ে উচ্ছ্বসিত না হতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারবিরোধীদের মধ্যে কোনো হতাশা নেই দাবি করে তিনি বলেছেন, হতাশা এখন অপর পক্ষে।

সরকার পতনের দাবিতে ঢাকার রাস্তায় আবার ‘জনতার মিছিল’ হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা এই নেতা।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন মান্না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচিটি পালন করে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’।

এই সরকারের কোনো দেশে কোনো ‘বন্ধু নেই’ দাবি করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘‘বাইডেন সাহেব উনাকে (শেখ হাসিনা) চিঠি লিখেছেন। অত গুলগুলা ভাব হওয়ার দরকার নাই। ও (বাইডেন) বলেছে, তোমাকে এশিয়া প্যাসিফিকের সঙ্গে যুক্ত করে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই। তার মানে ‘আমার কথামত চলতে হবে এবং আমার টাকা (যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ অর্থ) দিয়ে দিতে হবে’।

‘‘কিন্তু পিটার হাস (ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত) বলেছেন, তারা বলছেন, ভোট কিন্তু ভালো হয় নাই। আর এই যে এত বেশি গপ্প করেন… ভারত-রাশিয়া-চীন আমাদের পক্ষে আছে। কী রকম পক্ষে আছে বলেন তো?

“ভারত আর চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা। তিস্তা যে কখন কাকে দিয়ে দেয় এই ভয়ে চীনের দিকে তাকিয়ে থাকে ভারত। ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকে চীন। আর শেখ হাসিনার সরকার খুব চালাক-চতুর তো, দুই দিকে খেলার চেষ্টা করে। আমরা বলছি, খেলতে খেলতে এই খেলা শেষ হয়ে যাবে।”

বিদেশিরা ঋণের অর্থ শোধ করার তাগাদা দিচ্ছে দাবি করে মান্না বলেন, “বাংলাদেশ বিদেশ থেকে ঋণ করেছে ১০০ বিলিয়ন ডলার। শোধ দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। এখন সবাই টাকা চাচ্ছে। আমেরিকার-ইউরোপ তো চাপ দেয় নাই। কিন্তু চীন-রাশিয়া বলেছে, ‘তোমার সাথে দোস্তি বন্ধুত্ব যাই থাকুক, টাকা দাও। সংবাদপত্রে এসেছে, ওরা টাকা চায়।”

 ‘ওরাই হতাশ’

মান্না বলেন, “এই সংসদ কাজ করতে পারবে না। হতাশা ওদের মধ্যে, আমাদের নয়। মানুষ আমাদেরকে বলছে, ‘আমরা ভোট দিতে যাইনি’। নিরীহ জনগণ আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে।

‘‘আমরা এখন মানুষকে বলছি, সাহস করে রাজপথে মিছিলে আসুন। দেখবেন এই ঢাকা নগর মিছিলে মিছিলে সয়লাব হয়ে যাবে। তখন আওয়ামী লীগের লোকদের খুঁজে পাবেন না। খুব বেশি দিন নাই। আমরা সেই লড়াই চালাচ্ছি।”

৭ জানুয়ারি সরকার পক্ষের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “বরঞ্চ অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।

 ‘‘আমি আপনাদের বলি, হতাশ হওয়ার মত কিছু নাই। হতাশ ওরা হবে। কারণ, এ ভোট দুনিয়ার কেউ স্বীকার করেনি। পুলিশ বুঝেছে, ব্যুরোক্রেসি বুঝেছে, পার্টি বুঝেছে এই ভোট ভোট নয়। এই ভোট কবার পরে জোট ভেঙেছে, এই ভোট করবার পরে নিজের দলের মধ্যে আম-জাম-ডাব গাছ সব এক… যেটা নৌকা, সেটাই ঈগল, সেটাই আবার ট্রাক…. দল আছে আর?”

‘নৌকার মার্কেট নাই’

উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত নিয়ে মানববন্ধনে কথা বলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। তিনি বলেন, ‘‘কারণ, নৌকা এখন মার্কেট পাচ্ছে না। এটা এতটা ঘৃণিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে যে, নৌকা থাকলে মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যাবে না।”

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দবি করে অবিলম্বে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বিল পাস করে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেন নুর।

প্রায় শতভাগ জন সমর্থন বিরোধীদের দিকে দাবি করে তিনি বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, এই ৫ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে ৯৫ শতাংশ গণতন্ত্রকামী জনতার নেতৃবৃন্দকে আপনারা কারাগারে আটকিয়ে রাখতে পারবেন না।

“আপনারা যদি কারাগারে আটকে রাখেন, আপনারাও করুণ পরিণতি নিয়ে আসবেন।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের নেতা বলেন, “এই সাহস হয় কীভাবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা যা ইচ্ছা তাই করবে। কিন্তু তারা করছে তো। তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। এটা শুধু জাহাঙ্গীরনগর নয়, এরকম ঘটনা বাংলাদেশে অহরহ ঘটছে বাংলাদেশে।”

মানববন্ধনে বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ, কাজী রওনুকুল ইসলাম টিপু, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা আহসান হাবিব লিংকন, লেবার পার্টির একাংশের ফারুক রহমান, এনডিপির আবু তাহের, জাগপার একাংশের রাশেদ প্রধান ও বক্তব্য রাখেন।