২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাঁচ বছরে ১৪১৩ মৃত্যু: কারাগারে বন্দিরা কতটা নিরাপদ?

কারাগারগুলিতে এখন চিকিৎসা সেবা ‘শুধু ব্যাহত হচ্ছে না, চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে’, বলেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।

প্রশান্ত মিত্র

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 01:08 AM

Updated : 29 Oct 2026, 02:18 AM

ঢাকার মালিবাগে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ৫৯ বছর বয়সি রফিকুল ইসলাম।

গত মার্চে হাতিরঝিল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, এরপর থেকে তিনি বন্দি ছিলেন কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রফিকুল গেল শনিবার হঠাৎ করে বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব করেন। ‘হার্ট অ্যাটাক’ হতে পারে ধরে নিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বেলা ১২টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ রফিকুলের পরিবারকে তার অসুস্থতা এবং ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার খবর দিয়েছিল। তারও প্রায় তিন ঘণ্টা পর রফিকুলকে নিয়ে যখন কারারক্ষীরা হাসপাতালে পৌঁছান, ততক্ষণে চিকিৎসকের আর কিছু করার ছিল না। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রফিকুলের ছেলে সিরাজ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আব্বা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, মাঝে-মধ্যে বুকে ব্যথা হইত। মাথার টিউমার অপারেশনসহ ৫-৬টা অপারেশন হইছে আগে। নিয়মিত ডাক্তার দেখাইতে হইত, ওষুধের মধ্যেই ছিলেন।”

আগের দিন শুক্রবারই এ ব্যক্তি কারাগার থেকে ফোনে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তার জন্য কিছু টাকা পাঠাতে স্বজনদের অনুরোধ করেছিলেন। পরদিন টাকা পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই পরিবার তার অসুস্থতার খবর জানতে পারে।

রোববার তার লাশের ময়নাতদন্ত চলাকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন ছেলে সিরাজ।

তিনি বলেন, “উনি অসুস্থ ছিলেন, ডায়াবেটিস ছিল, হাঁটাচলা করতে পারতেন না। খাওন খাইতে পারতেন না। কোনো ট্রিটমেন্ট নাই, শুধু ওষুধ যেইটা ওইখান থেকে দিতেছে ওইটাই। কোনো চেকআপ নাই, কোনোকিছু নাই। শরীরের অবস্থা উন্নতি না অবনতি, আমরা কেমনে বুঝব?

“একটা হার্ট অ্যাটাকের রোগীরে তিন ঘণ্টা পর হাসপাতালে নিলে আর বাঁইচা থাকে? তারা বলতেছে জ্যাম ছিল, এটাই এখন কী বলব? খবর পাইয়া আমরা হাসপাতালে আইসা আব্বাকে মৃত অবস্থায় পাইছি।”

শুধু রফিকুল নন, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কারা হেফাজতে অন্তত আড়াইশ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে বাইরের হাসপাতালে কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার পথে।

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’- এই লক্ষ্য ধরে পরিচালিত দেশের কারাগারগুলো তাদের বন্দিদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারছে?

দেশের কারাগারগুলোতে প্রায়ই ‘অসুস্থ’ হয়ে বন্দি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত্যুর হার বাড়েনি, বিগত বছরগুলোর মতোই রয়েছে।

কারা উপমহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হাসিব দেওয়ান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংখ্যা যে খুব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে এরকম না। এই রেটটা মোটামুটি সবসময় থাকে, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে এরকমই ছিল।

“কিন্তু আমাদের যেটা এক্সপেক্টেশন, সেটা হচ্ছে আমরা একটাও একটাও এক্সেপ্ট করতে রাজি না। একটাও যদি এরকম মৃত্যু হয় জিনিসটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।”

কিন্তু বন্দিমৃত্যু কমাতে কারাগারে চিকিৎসা সেবার কতটা নিশ্চিত করতে পারছে কারা কর্তৃপক্ষ?

জবাবে কারা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল ঘাটতির পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সংকটের সামনে আনছে। কিন্তু সংকট কাটানোর উদ্যোগ কী? সে উদ্যোগ বাস্তবায়নে কত বছর লাগবে? এসব প্রশ্ন আসছে।

আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, একজন মানুষ যখন বন্দি থাকে তার মানে তিনি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকছেন, ফলে তার চিকিৎসা, তার খাওয়া-দাওয়া, তার মানে থাকার ব্যবস্থা এটা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হচ্ছে, বাংলাদেশের কারাগারগুলিতে এখন চিকিৎসা সেবা ‘শুধু ব্যাহত হচ্ছে না, চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে’।

এ ক্ষেত্রে গাফিলতির সুযোগ নেই তুলে ধরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চিকিৎসকের স্বল্পতা, অ্যাম্বুলেন্স নেই বা সময়মতো তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা যায়নি-এরকম কথা বলে তো রাষ্ট্র তার দায়িত্বকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই বিষয়টা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

বছরপ্রতি কারা হেফাজতে কত মৃত্যু?

কারা অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পাঁচ বছরে কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ জন বন্দির।

এর মধ্যে কারা হাসপাতালে মোট মৃত্যু হয়েছে কেবল ২০২১ সালে ৩ জনের। বাকি ৯০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বাইরের হাসপাতালগুলোতে, আর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে ৪৯৬ জন বন্দির। বাকি ৭ জন ‘আত্মহত্যা’ করেছেন।

২০২১ সালে কারা হেফাজতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫১। ২০২২ সালে ২২৩, ২০২৩ সালে ৩৭৭, ২০২৪ সালে ৩২১ আর ২০২৫ সালে মারা গেছেন ১৮৮ জন।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৫১ জন বন্দির।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব মৃত্যু ‘অসুস্থতাজনিত’, এর মধ্যে অধিকাংশই ‘হৃদরোগে’।

বেশি মৃত্যু বিচারাধীন বন্দিদের

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, কারা হেফাজতে সাজাপ্রাপ্তদের চেয়ে বেশি মৃত্যু হয় বিচারাধীন বন্দিদের।

শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত মৃত্যুর খবর বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, এ বছরের প্রথম নয় মাসে তারা মোট ১০২ জন বন্দির মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন, এর মধ্যে আছে বিচারাধীন ৬০ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৪২। ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ৬৪ জন।

তাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১০৭ জনের মধ্যে বিচারাধীন ৬৯, ২০২৪ সালে ৬৫ জনের মধ্যে বিচারাধীন ৪২, ২০২৩ সালে ১০৬ জনের মধ্যে বিচারাধীন ৬৪, ২০২২ সালে ৬৫ জনের মধ্যে বিচারাধীন ৩৭ এবং ২০২১ সালে ৮১ জনের মধ্যে বিচারাধীন বন্দি ছিলেন ৫২ জন।

তাদের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে কারাগারে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা ও হাসপাতালের দূরত্বের কারণে বন্দিদের ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টি। বিশেষ করে যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় ‘সবচেয়ে ঝুঁকিতে’ থাকেন হৃদরোগে আক্রান্তরা।

মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বিচারাধীন বন্দি তথা হাজতিদের বেশি মারা যাওয়া প্রসঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা যে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা অসুস্থতা নিয়েও তো অনেকে কারাগারে যায়। তাদের ‘সঠিক তথ্য সংগ্রহ বা ব্যবস্থাপনা হয় না’।

কিছুক্ষেত্রে ভোক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে নিজের আলাপ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যেমন কেউ গেল কারাগারে, তার ডায়াবেটিস আছে। তাহলে তার ইনসুলিনটা যাবে কীভাবে? ইনসুলিনতো কারাগার থেকে দেয় না। কারাগারে ডাক্তার যদি প্রেসক্রিপশন করে সেটা আসতেও সময় লাগে, আবার এটা ম্যানেজ করতেও সময় লাগে। এই ধরনের বিষয়গুলো কিন্তু অনেক বড়।

“অনেক সময় বলছেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে। এই ধরনের হার্ট এবং ডায়াবেটিস রোগীরা কিন্তু অনেক বেশি আক্রান্ত হয়ে যায়। কথা বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, এই যারা এই অসুস্থ এবং যাদের ওষুধ-পাতি বেশি নাই তাদের ক্ষেত্রে এমনটি হচ্ছে।”

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কারা অধিদপ্তর থেকে সব জেল সুপারকে চিঠি পাঠিয়ে বন্দিদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই চিঠিতে পথিমধ্যে মৃত্যু ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ

নিরাপত্তাকর্মী রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর শুনে তার সন্তানসহ স্বজনরা গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। নিয়মিত ওষুধের মধ্যে থাকা রফিকুল ঠিকমতো ওষুধ ও চিকিৎসার অভাবেই মারা গেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

তার মৃত্যুর পর কারা কর্তৃপক্ষের তরফে শাহবাগ থানায় করা অপমৃত্যুর মামলায় মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘হার্ট অ্যাটাকের’ কথা বলা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকা তার আরেক ছেলে রবিউল ইসলাম রোববার মর্গের সামনে বলেন, “জেলখানায়তো বাইরের ওষুধ অ্যালাউ করত না। ওইখান থেকে নিতে হইত। আমাদের সাথে কথা হইলে কইতো, বুকে ব্যাথা হইলে বা কোনকিছু হইলে ওইখানের হাসপাতালে গেলে দুয়েকটা ট্যাবলেট দিতো।”

এমনকি তার চিকিৎসার আগের কোনো কাজপত্রও কারাগারে দেওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রবিউল বলেন, “আমরা দিতে পারি নাই, মেডিকেলে কাগজ দিতে চাইছিলাম, দিতে দেয় নাই। ভিতরে ডাক্তার, তারা কইছে তারা দেইখা লইব।”

তবে বন্দিদের চিকিৎসার কাগজপত্র কারাগারে নিতে না দেওয়ার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন কারা অধিদপ্তরের জেলার মাসুদ হাসান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্দি কাগজপত্র সাথে করেই নিয়ে যেতে পারে, এক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নাই। তারপরেও কথা হচ্ছে যদি সাথে করে নিয়ে না যায়, তার আত্মীয়-স্বজন কারা ফটকে, প্রত্যেকটা কারাগারে একটা বুথ থাকে ওষুধ এবং এই কাপড়-চোপড় নেওয়ার জন্য অথবা তার প্রেসক্রিপশন নেওয়ার জন্য।”

বাইরের ওষুধের বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অবশ্যই নিতে পারবে। যে সকল ওষুধগুলো দেওয়া হয়, এই ওষুধগুলো আপনার আমাদের চিকিৎসক অথবা চিকিৎসকের অবর্তমানে ফার্মাসিস্ট অথবা ডিপ্লোমা নার্স দিনে দিনেই দেখে দিয়ে দেন। যেদিন যেদিন ওষুধ দিবে ওই দিনেই ডেলিভারি পেয়ে যাবে।

“ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারও আলাদা বুথ আছে, সেখানে দিলে ওটা বিনামূল্যেই বন্দির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই বুথে কাজটি হচ্ছে ওষুধ এবং এই প্রেসক্রিপশন নেওয়া।”

শনিবারই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেহেদী হাসান নামে ১৯ বছর বয়সী এক বন্দির মৃত্যু হয়। তাকেও ‘অসুস্থ হয়ে পড়ায়’ সেদিন দুপুরে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

তিনিও নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় গেল এপ্রিল থেকে কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা মেহেদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ১৫ থেকে ২০ জন স্বজন হাসপাতালে গিয়ে হট্টগোল করেন, পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বজনদের প্রশ্ন ছিল, কারারক্ষীদের পাহারায় হেঁটে হাসপাতালে প্রবেশ করা মেহেদী কীভাবে মারা গেলেন?

মেহেদী বেশ কয়েক দিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যার কথা বলা হয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষের তরফে। তবে তার মৃত্যুর সনদে চিকিৎসক ‘ইরিভার্সিবল কার্ডিওরেসপিরেটরি ফেইলিউর’, ‘মেনিনগোএনসেফালাইটিস’ ও ‘অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া’ লিখেছেন।

রোববার ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে মেহেদীর স্বজনরাও লাশের ময়নাতদন্ত শেষের অপেক্ষায় ছিলেন। খালাতো ভাই নাজমুল বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আমরা গিয়ে দেখা করে আসছি। তখনই বলছিল অসুস্থ, জ্বর ছিল। বলছিল, ‘আমি অসুস্থ আমাকে বের কর’। ঠিকঠাক ট্রিটমেন্ট পাইলে এই ঘটনাটা ঘটতো না।”

দ্বিগুণের বেশি বন্দি

কারা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবমিলিয়ে দেশের ৭৫টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জনের। বেশিরভাগ সময়ই বাড়তি বন্দি থাকলেও চলতি বছরে সেটি লাখ ছাড়িয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে চলতি বছরের আগে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দির সংখ্যা কখনো লাখ ছাড়ায়নি।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে বন্দি ছিল ৬৭ হাজার ৫৩২ জন, জুলাই মাসে ছিল ৭৯ হাজার ৩৩৫ জন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বন্দি ছিল ৮০ হাজার ৩৪৫ জন। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেই বন্দির সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের বলছে, বর্তমানে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে’ গ্রেপ্তার বেশি হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায়ও অনেককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আগের থাকা বন্দিদের জামিন বিলম্বের কারণে প্রতিনিয়তই চাপ বাড়ছে কারাগারে।

মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, “এখন যে ওভারক্রাউড বন্দি, যার বেশিরভাগই হচ্ছে হাজতি, মানে আন্ডার ট্রায়াল। পলিটিক্যাল আনরেস্ট বা এরকম সরকার পরিবর্তনের ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা বেশিরভাগ আটক হয়। এছাড়া অন্যান্য অভিযান তো আছেই, আবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তো খারাপ, এসব কারণে গ্রেপ্তারের সংখ্যাটা বেশি থাকে।”

প্রতিদিন গড়ে বন্দি বাড়ছে ৩০০

অক্টোবরে সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৪০০ জন যোগ হচ্ছেন, আর এর বিপরীতে জামিন পাচ্ছেন প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন।

প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জন করে কারাগারে থেকে যাচ্ছেন, এর ফলে মাসে প্রায় বন্দি বেড়ে যাচ্ছে অন্তত ৯ হাজার।

কারা অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় এবং নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লার মতো কারাগারে বন্দির চাপ সবচেয়ে বেশি।

২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রেজুলেশন ৭০/১৭৫-এর মাধ্যমে বন্দিদের প্রতি আচরণের জন্য জাতিসংঘের ন্যূনতম মানদণ্ড (ইউনাইটেড ন্যাশনস স্ট্যান্ডার্ড মিনিমাম রুলস ফর দ্য ট্রিটমেন্ট অব প্রিজনার্স) গ্রহণ করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নামকরণ করে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস’।

নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের মূল বক্তব্য হল- বন্দিকে অমানবিক পরিবেশে রাখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা কিংবা তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই শাস্তির অংশ হতে পারে না। রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই।

৭৫ কারাগারের জন্য চিকিৎসক ২ জন

দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৬০টি জেলা কারাগার।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৬২টি। অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে প্রেষণে কর্মরত আছেন মাত্র দুই জন চিকিৎসক। এদের একজন মানিকগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং অন্যজন রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে আরও ৯৭ জন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে গিয়ে প্রতিদিন ঘণ্টা দুয়েকের জন্য বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।

এর বাইরে ডিপ্লোমা নার্সের ১০১টি পদের বিপরীতে কারাগারে নিযুক্ত আছেন মাত্র ২৯ জন। সারাদেশের কারাগারের জন্য ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের পদ রয়েছে মাত্র ১১টি, যার বিপরীতে নিয়োজিত আছেন পাঁচ জন। ফার্মাসিস্টের ৭৬ অনুমোদিত পদের মধ্যে এখনও নয়টি শূন্য রয়েছে।

কারারক্ষীদের মধ্য থেকেই ৩৬ জনকে সেনাবাহিনী ও বিজিবিতে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোথাও কোথাও ল্যাব টেকনিশিয়ানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কারা অধিদপ্তর।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন চিকিৎসক বলেন, সেখানে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। সেখানকার হাসপাতালে অন্তত সাত জন চিকিৎসক থাকার কথা, অথচ মাত্র দুই জন চিকিৎসক সংযুক্ত অবস্থায় সেখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “কারা হাসপাতালে বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না। অসুস্থ বন্দিদের ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবলের অভাবে পরীক্ষা খুব কম হয়।”

নিয়মানুযায়ী প্রতিটি কারাগারে একজন মানসিক চিকিৎসক থাকার কথা, তবে তা নেই। নারী বন্দি থাকলেও কোথাও নেই গাইনি চিকিৎসক।

‎‎চিকিৎসক ও কারা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চিকিৎসকদের কারাগারে পদায়নে অনাগ্রহের পেছনে প্রধান সমস্যা ‘কাঠামোগত’ সমস্যা।

চিকিৎসকরা সাধারণত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন, যেখানে কারা অধিদপ্তরের চিকিৎসক পদটি নন-ক্যাডারের। ফলে কোনো চিকিৎসকই নন-ক্যাডার পদে যোগ দিতে আগ্রহী নন।

এর বাইরে অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুবিধাও পান না তারা। চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ারও সুযোগ কম থাকায় চিকিৎসকরা কারা হাসপাতালে যোগ দিতে চান না।

Image

ফাইল ছবি।

পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে চিকিৎসা সরঞ্জাম

কারা হাসপাতালের বিভিন্ন নথি ও কারা অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালে কাশিমপুর-২ কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০ শয্যার তিন তলা একটি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ২০০৫ সালে হাসপাতালটির কাজ শেষ হয়।

২০১১ সালে প্রথমে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ও এক্স-রে মেশিন, পরে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন কেনা হয়।

পর্যায়ক্রমে এ কারা হাসপাতালের জন্য উন্নতমানের অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতি, প্যাথলজি ল্যাবসহ সবকিছু কেনা ও স্থাপন করা হয়। দুই ধাপে সেসব চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা।

হাসপাতালটির জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক, দুই জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নয় জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ২০ জন মেডিকেল অফিসারসহ ১৫০ জনবলের অনুমোদন ছিল। কিন্তু দুই যুগেও এসব জনবল নিয়োগ হয়নি, এতে সেখানকার জন্য কেনা যন্ত্রপাতিও বাক্সবন্দি রয়ে গেছে।‎‎

এরপর বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও খুলনা কারাগারের জন্যও এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতির সেট, ইসিজি মেশিন, এন্ডোস্কোপি মেশিনসহ প্রায় ৩ কোটি টাকার বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল, যার বেশিরভাগ যন্ত্রই রয়ে গেছে অব্যবহৃত।‎

১৯৯৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল, পরে প্রায় ১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। তিনজন ডাক্তারসহ ১০টি পদ রাখা হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না হওয়ায় যন্ত্রপাতিও রয়েছে অব্যবহৃত।

‎এ ছাড়া খুলনায় ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৭০ শয্যার কারা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালটির জন্য ১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৭২ শয্যাবিশিষ্ট কারা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। যেটির জন্য কেনা হয়েছিল প্রায় ৬১ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি। সেসব হাসপাতালেও লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায়নি।

৭৫ কারাগারে অ্যাম্বুলেন্স ২১টি

৭৫ কারা হাসপাতালের জন্য বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২১টি। কারা হাসপাতাল থেকে বাইরের কোনো হাসপাতালে অসুস্থ বন্দিকে পাঠাতে হলে তখন বেশিরভাগ সময়ই নির্ভর করতে হয় অন্য যানবাহনের ওপর। কোনো কোনো রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তর করতে অক্সিজেন দিতে হয়, যেটি অন্য যানবাহনে থাকে না।

অনেক সময় সাধারণ যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছাতেও দেরি হওয়ায় কোনো রোগীর ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এটিকে ‘ভয়ঙ্কর ব্যাপার’ মন্তব্য করে কারা উপমহাপরিদর্শক আখতার হাসিব দেওয়ান বলেন, প্রতি কারাগারে একটি করেও অ্যাম্বলেন্স নেই। এমনকি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ অনেক কারাগারে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই।

তিনি বলেন, “রোগী যখন খারাপ (অবস্থা) হয়, ওনাকে যখন আমরা মনে করি যে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তাকে আমরা নিচ্ছি কীভাবে? হয় ডাবল ক্যাবিন পিকআপ অথবা ওই জেল সুপারের গাড়িটা…মাঝে-মধ্যে এমন হয় আমাদের অনেক জেলে ওই গাড়িও নাই। অনেক সময় প্রাইভেট কোনো একটা কিছু ভাড়া করে তাড়াতাড়ি করে নিয়ে যাচ্ছি।”

“অ্যাম্বুলেন্স যদি না থাকে, না পারতেছি তাকে আমি অক্সিজেন দিতে, না পারতেছি স্যালাইন দিতে। ডাবল ক্যাবিন পিকআপে কীভাবে রোগী পরিবহন করা যায়?” আখতার হাসিবের নিজেরই প্রশ্ন।

সমাধানে উদ্যোগ কী?

কারা উপমহাপরিদর্শক আখতার হাসিব বলেছেন, তাদের প্রধান সমস্যা চিকিৎসক না থাকা।

সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে কিছু কিছু চিকিৎসককে কারাগারে সংযুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু ওনারা শুধুমাত্র অফিস টাইমে দুই-তিন ঘন্টার জন্য আসেন। সন্ধ্যা ও রাত এই সময়টাতে বেশি অসুস্থ হয়, এই সময়টাতে কিন্তু আসলে আমাদের কোনো চিকিৎসক নাই। ওই ফোনে ফোনে কথা বলতে হয়, ফোনে ফোনে কথা বলেই আমাদের কারা বিভাগে যারা আছে ওনারা চিকিৎসাটা দেন।”

তবে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৪৪টা অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রকল্প শেষ পর্যায়ে রয়েছে, বলেন তিনি।

তার ভাষ্য, কারাগারগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা কারাবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরও দায়িত্ব আছে। কারণ প্রত্যেকটা কারা হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ মেডিকেল অফিসার হচ্ছে ওই জেলার সিভিল সার্জন।

“চিকিৎসক পদগুলা পূরণ করার একটাই প্রসেস আছে বর্তমান সিস্টেম অনুযায়ী। নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সেটা হচ্ছে, স্বাস্থ্য থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণের মাধ্যমে আসা।”

সবকিছু মিলিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ‘কোনোমতে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে’ বলে ভাষ্য এই কর্মকর্তার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান বলেন, “চিকিৎসকদের সংকট থাকায় চাহিদা অনুসারে দেওয়া সম্ভব হয় না। এসব জায়গায় মূলত ডাক্তারদের ডেপুটেশনে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সেখানে সৃষ্ট পদ থাকলে অব্যশই সে অনুসারে চিকিৎকদের নিয়োগ দেওয়া হবে।”

পুরনো খবর:

‘অসুস্থ হয়ে’ কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দির মৃত্যু

কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘অসুস্থ’ বন্দির মৃত্যু ঢাকা মেডিকেলে

২ বছরে ‘২২৭ কারাবন্দির’ মৃত্যুর ‘অধিকাংশই হৃদরোগে’: কারা কর্তৃপক্ষ

কেরানীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ ২ বন্দির ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু

কেরাণীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ আরেক বন্দির ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ হাজতির মৃত্যু, ঢামেকে স্বজনদের হট্টগোল