ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ হাজতির মৃত্যু, ঢামেকে স্বজনদের হট্টগোল
মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৃথক ঘটনায় দুই হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অন্যজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শনিবার বিকালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মারা যাওয়া ওই দুই হাজতি হলেন- নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম (৫৯) এবং মাদারীপুরের মেহেদী হাসান কাজী (১৯)।
কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী হারুন শেখ দাবি করেন, দুপুর ৩টার দিকে হাজতি রফিকুল ইসলাম হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে রফিকুল ইসলাম কোন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি কারারক্ষী হারুন।
নিহত রফিকুল নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার ‘নতুন বাড়ি’ এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে।
অন্যদিকে মেহেদী হাসান কাজীর মৃত্যু প্রসঙ্গে একই কারাগারের কারারক্ষী সাহাবুল ইসলাম বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বন্দি ছিলেন এই তরুণ। সম্প্রতি মেহেদী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার তার অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
“পরবর্তীতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করলে সেখানে যাওয়ার পথে মেহেদী অচেতন হয়ে পড়েন। আবার তাকে জরুরি বিভাগে ফিরিয়ে আনলে বিকাল ৫টার দিকে চিকিৎসক মেহেদীকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেদী হাসান মাদারীপুরের শিবচর থানার উত্তর কাজী পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ফারুক কাজীর ছেলে।
এদিকে মেহেদীর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের দাবি তুলে কর্তব্যরত কারারক্ষী ও আনসারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মেহেদীর ভাই সাঈদ কাজী অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সাত মাস আগে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ সে কারাগারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেল।”
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, “মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে স্বজনদের কাছে।”
