Published : 01 Apr 2026, 01:37 AM
সংবিধান সংশোধনে সংসদে থাকা সব দলের ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে সরকারি দলের তরফে। তবে বিরোধী দল কমিটিতে উভয় পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব চায়।
মঙ্গলবার সংসদে জুলাই সনদের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এতে সমর্থন দেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান এ কমিটি গঠনের বিষয়ে বলেন, সরকারি ও বিরোধী বেঞ্চ থেকে সমান প্রতিনিধিত্ব রেখে এমন কমিটি করা হলে তারা তা ইতিবাচকভাবে দেখবেন।
তবে সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়টিও আলোচনায় রাখার দাবি জানান তিনি।
মঙ্গলবার সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে মুলতবি আলোচনায় তারা এ বিষয়ে কথা বলেন। গত রোববার ডেপুটি স্পিকার এ বিষয়ে দুই ঘণ্টার আলোচনার জন্য মঙ্গলবার দিন রেখেছিলেন।
কার্যপ্রণালীর ৬২ বিধিতে আনা মূলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় এদিন সরকারি বেঞ্চের তিনজন ও বিরোধী বেঞ্চের আটজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন।
উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরলেও তা কোন পথে হবে, বিদ্যমান সংবিধানের ভেতরে না বাইরে, রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনগত ভিত্তি কতটুকু এবং গণভোটের রায় কীভাবে কার্যকর হবে তা দ্বিমত পোষণ করে বক্তব্য দেন।
দুই ঘণ্টার আলোচনার শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মূলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষ ঘোষণা করেন। তবে তিনি সেসময় কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের অভিযোগ, এখন সংস্কারের বদলে সংশোধনের দিকে যাওয়া হচ্ছে।
“এই সংশোধনীর জন্য আমাদের ছেলেরা তরুণ যুবকরা জনতারা কাজ করে নাই।
“এমেন্ডমেন্টের জন্যতো শেখ হাসিনাও সেদিন অফার করেছিল। ২৪ ঘণ্টা দরজা খোলা আছে। তোমরা সংশোধনের জন্য আসো। সেদিন এই ছাত্রজনতা সংশোধন মেনে নেয়নি। তারা সংস্কারের জন্য কথা বলতে চেয়েছিল। আজকে সংস্কারটা মাথায় নিতে পারছি না কেন?”
এ বিষয়ে অগ্রাধিকারের বদলে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ডের মত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ায় সরকারি দলের সমালোচনা করেন তিনি।
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না, সেই সময়ে সংবিধান কতটা কার্যকর ছিল, সেটাই আগে প্রশ্ন।
“কোন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংসদে এসেছি আমরা সকলেই সেটা জানি। সেই প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশে সংঘটিত হল তারপরে ৫ আগস্ট থেকে নিয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন সরকার ছিল না। সেই সময়টাতে বাংলাদেশের সংবিধান কতটুকু কার্যকর ছিল সেই ব্যাপারে কি আমরা খোঁজখবরটা রেখেছি?”
বর্তমান আইনমন্ত্রীর তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ, আগের সরকারের পদত্যাগ, ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ–সবকিছুর সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, “যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করেছে সে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও এর কোন বর্ণনা নেই।”
আখতারের অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের আলোচনায় বর্তমান সরকারের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তখন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ছিলেন, এখন সংসদে এসে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন কেন, তার জবাব দরকার।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, তাদের আপত্তি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে নয়, বরং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে।
“সবচেয়ে বড় কথা, প্রবলেম জুলাই সনদ না, আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে, আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন।”
তিনি বলেন, যদি সত্যিই বিপ্লবী সরকার গঠন করা হতো, তাহলে সংবিধান নতুন করে লেখার প্রশ্ন আসতে পারত। কিন্তু বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে পুরো সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায় না।
গণভোটে চারটি প্রশ্ন আলাদাভাবে তোলার পদ্ধতি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠনের আইনি ভিত্তি নিয়েও আপত্তি তোলেন তিনি।
এনসিপির কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থ যারা সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চায়, তাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছেন আর ট্রেজারি বেঞ্চ সেটিকে সমর্থন দিয়েছে।
“গণতন্ত্রের জন্য যিনি আপোষহীন লড়াই করে গিয়েছেন, বেগম জিয়া, উনি বলেছিলেন, যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যেদিন এই পার্লামেন্ট জনতার সরকারের কাছে যাবে, এদিন এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে।”
তার ভাষায়, যারা দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তারা যদি এ বক্তব্যে হাততালি দেন তাহলে তাকে অপমান করেছেন কিনা সেটা ভেবে দেখবেন।
তার অভিযোগ, ১৯৭২ সালের সংবিধানের যেসব অংশ কারও পক্ষে গেছে, কেবল সেগুলোই মানা হচ্ছে; বিপক্ষে গেলেই তা মানা হচ্ছে না। তিনি এ অবস্থানকে ‘অপরচুনিস্ট’ (সুবিধাবাদী) হিসিবে বর্ণনা করেন।
তার বক্তব্য, “যদি আমি এই সংবিধান মানি তাহলে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেসবই হয়েছিল জনরায়ের ভিত্তিতে, কেবল কেতাবি সংবিধানের ভেতরে থেকে নয়।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান বলেন, “ইতিহাসে এই প্রথম যে বাংলাদেশের সব কয়টা রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে একমত হয়েছেন।”
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন ‘নতুন হাসিনা’ হয়ে না উঠতে পারেন, সেজন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধিব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা–সবকিছুতেই পরিবর্তন আনা দরকার বলে তিনি মত দেন।
পাবনা-১ আসনের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়, দলীয়করণ বন্ধ, ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো–এসবই সংস্কারের লক্ষ্য। জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়- এ অবস্থান থেকেই তিনি সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলাম বলেন, যে সংবিধানকে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদী আমলে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, এখন আবার সেটিকেই বুকে টেনে নেওয়া হচ্ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।
‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’
এরপর বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, “আজকের আলোচ্য বিষয় জুলাই জাতীয় সনদ নয়, বরং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কেন আহ্বান করা হয়নি।
“এটাই হচ্ছে আজকের ফ্যাক্ট ইন ইস্যু, আলোচ্য বিষয়।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো সাংবিধানিক অস্তিত্ব নেই। ফলে সেই পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নও ওঠে না।
তার ভাষায়, সংশ্লিষ্ট আদেশ বৈধ আইন নয়; রাষ্ট্রপতি অতীতে আদেশ জারি করতে পারলেও ১৯৭৩ সালের পর সেই ক্ষমতা আর নেই।
“এই আদেশটা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ না হওয়ার কারণে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হলেও সংসদের প্রথম দিনে এই আদেশটা উপস্থাপন করা হলো না। কারণ এটা না হয় অধ্যাদেশ না হয় আইন। আমি সেজন্য বলেছিলাম এটা হয়তো কোন নিউট্রাল জেন্ডার হতে পারে। অ্যানিওয়ে এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তহীন একটি প্রতারণার দলিল। এটা আমি আজকে আবার পুনরুচ্চারণ করছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু জুলাই আদেশ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে।
“কিন্তু যেটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সেটা হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ, ব্র্যাকেটে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ, অর্থাৎ জুলাই আদেশ। আমরা তো আছি জুলাই জাতীয় সনদে, যেটা জাতির সামনে সবাই স্বাক্ষর করেছি সেটাই।”
তিনি দাবি করেন, গণভোটের প্রস্তাব বিএনপিই তুলেছিল, যাতে জনগণ জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে কি না, তা জানা যায়। তবে তার মতে, সেই গণভোটকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বা সংবিধান সরাসরি বদলে দেওয়ার ম্যান্ডেট হিসেবে ধরা যাবে না।
আদেশটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংসদের এখতিয়ার খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট এক জিনিস, আর গণভোটের ব্যালট আরেক জিনিস; গণভোটে ‘সংস্কার চাই কি না’ জিজ্ঞেস করা হয়েছে, কিন্তু তাতে পরিষদের সদস্য নির্বাচন হয়নি।
তিনি বলেন, “ব্যালেট ছিল যে এখানে এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য কনস্টিটিউশনাল ম্যান্ডেট হিসেবে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে একটা ব্যালেট দিয়েছে, সেখানে আমরা সিলটিল দিয়েছি। আরেকটা গণভোটের ব্যালট ছিল, যে সংস্কার চায় কি না, হ্যাঁ অথবা না বলেন। ... সেটা দিয়ে তো সংস্কার পরিষদের কোন সদস্য এখানে নির্বাচিত হয় নাই। শপথ নেবেন কীভাবে?”
প্রধান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার ভাষায়, “সংবিধান সংরক্ষণের জন্য শপথ নিয়েছেন, এই ফর্ম আপনাকে দাখিল করা, জাতীয় সংসদ সচিবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এখতিয়ার কে দিয়েছে, কোন আইন বলে দিয়েছে?”
এরপর তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে, কিন্তু সেটা সংসদের ভেতর দিয়েই হতে হবে।
শেষে তিনি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
সংসদ নেতার পক্ষে প্রস্তাব রেখে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘সেজন্য আজকে এই মহান জাতীয় সংসদে প্রস্তাব রাখছি-সংসদ নেতার পক্ষে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক। উক্ত কমিটিতে সকলে মিলে আলাপ-আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশিত সংবিধান সংশোধনী বিল এই মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করি এবং সেটা সমঝোতার মাধ্যমে আমরা গ্রহণ করি।”
‘সংবিধান এবং আইন মানুষের জন্য’
মূলতবি প্রস্তাবের এ আলোচনার শুরু করেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান। বলেন, ১৫ মার্চ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলার পর স্পিকারের পরামর্শে তিনি যথাযথ নোটিস দেন। পরে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ আলোচনা শুরু করায় তিনি স্পিকারকে ধন্যবাদ দেন।
তিনি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং গত দেড় দশকের শাসন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু তরুণদের ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সাধারণ মানুষ এবং শিশুসন্তান কোলে নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন।
এরপর একে একে অন্য সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আবার ব্ক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান শফিকুর রহমান।
তখন তিনি বলেন, সরকারি বেঞ্চ বা বিরোধী বেঞ্চ কোনো স্থায়ী বিষয় নয়; জনগণের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়েই তারা সংসদে এসেছেন।
“সংবিধান এবং আইন মানুষের জন্য, আইন কিংবা সংবিধানের জন্য জনগণ নয়।”
তার ভাষায়, সরকার যদি সত্যিই এ আদেশকে প্রতারণার দলিল মনে করত, তাহলে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপত্তি তুলতে পারত। অথচ সরকারই গণভোট ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে, প্রশ্নগুলো প্রকাশ করেছে, প্রধানমন্ত্রীও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলেছেন।
“আমরা তো এক হয়ে করেছি, আমরা আমাদের জায়গায় আছি, আমরা জায়গা পরিবর্তন করি নাই।”
বিশেষ কমিটির প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, সমাধানের পথ খুঁজতে তারা প্রস্তুত। তবে সেই কমিটিতে দুই পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে, নইলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আবারও একই বিতর্ক চলবে।
তিনি বলেন, “আমরা সংকট তৈরির জন্য তো এখানে আসিনি, দেশের মানুষের সংকট নিরসনের জন্য এখানে এসেছি।”
এদিন সবশেষে বক্তব্য দিতে এসে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিরোধী সদস্যরা একদিকে ১৯৭২ সালের সংবিধান মানেন না, অন্যদিকে সেই সংবিধানের পদ্ধতি ধরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন চাইছেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের বহু সংস্কারই ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে’। ফলে ১৯৭২ সালের সংবিধানই ভিত্তি। আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট হল সেই সংবিধানকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা।
তিনি বলেন, “আমাদের বুঝতে হবে ৭২-এর সংবিধান আমাদের কাছে বেসিস।
“রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো সামাজিক চুক্তির মতো; সেই সামাজিক চুক্তির ফরমেট হলো এই সংবিধান।”
আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবে ধারণ করেছে বলেই নারী প্রার্থী দিয়েছে, ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলকে অফার করা হয়েছে।
জুলাই আদেশের তেমন ‘আইনি ভিত্তি না থাকার’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সার্বভৌম পার্লামেন্ট এই পার্লামেন্টকে কোনভাবেই কোন আইন দিয়ে বাধ্য করা যায় না।”
শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব সমর্থন করে তিনি একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।