Published : 21 Apr 2026, 10:25 PM
উপজেলা পরিষদ ভবনে বসার জন্য আলাদা জায়গা দেওয়া হচ্ছে সংসদ সদস্যদের। এজন্য উন্নতমানের আসবাবপত্রে সজ্জিত একটি কক্ষ প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে এ বিষয়ক আদেশে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নামে পৃথক একটি কক্ষ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে এখন যেসব উপজেলা পরিষদের ভবন রয়েছে সেগুলোর দ্বিতীয় তলায় এ কক্ষ প্রস্তত করতে বলা হয়েছে। আর নতুন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও দ্বিতীয় তলায় এমন একটি কক্ষ রাখার জন্য ডিপিপির নকশা ও পরিকল্পনায় সংস্থান রাখতে বলা হয়েছে।
এদিন সংসদেও সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলায় এমন কক্ষ বরাদ্দ রাখার আদেশের কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এর পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির দাবিও তোলেন।
তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এমপিরা করমুক্ত গাড়ি বা প্লট নেবেন না।
এদিন সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে এক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছিলেন, উপজেলা পরিষদে গেলে তাদের বসার কোনো জায়গা থাকে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার পর মঙ্গলবারই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এমপিদের নামে কক্ষ বরাদ্দের বিধান না থাকায় এর নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’।
কোনো সংসদ সদস্যের আসনে একাধিক উপজেলা থাকলে সবগুলো উপজেলাতেই এ ধরনের কক্ষ থাকবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
এ বিষয়ক আদেশে বলা হয়েছে, “উপজেলা পরিষদের পুরোনো কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওয়াশরুমসহ উন্নতমানের আসবাবপত্রে সাজানো একটি ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নির্ধারণ করতে হবে অথবা নতুন কক্ষ স্থাপন করতে হবে।”
এ সংক্রান্ত ব্যয় উপজেলা প্রশাসনের এডিপি, রাজস্ব খাত বা প্রকল্পের অর্থ থেকে মেটানো হবে বলে আদেশে তুলে ধরা হয়।
সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন ভবন বা পুরোনো ভবন, যেখানে যে অবস্থা আছে, সেখানেই দ্রুত এই কক্ষ প্রস্তুত করা হবে।
এর আগে ৩১ মার্চ এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ নির্বাচনি এলাকায় এমপিদের জন্য অফিসের দাবি তুলেছিলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তুললেন গাড়ির দাবি
বসার কক্ষের সুরাহা হওয়ার ঘোষণার পর কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে সুযোগ দেন।
হাসনাত বলেন, “আমি সবসময় বিভিন্ন বিরোধিতার জন্য দাঁড়াই, আজকে থ্যাঙ্ক ইউ জানাচ্ছি যে আজকে এই ধরনের একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটা বসার অন্তত জায়গা হয়েছে।”
এরপর তিনি এমপিদের জন্য গাড়ির দাবি তোলেন। বলেন, “আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না। এখন এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলার চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকে, আমরা ভাড়া করে গাড়িতে চলি। আপনাদেরকে আমরা লজ্জায় এটা বলতে পারি না।
“এখন আমাদেরকে যদি একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছে, এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয় তাইলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়, মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।”
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরই দলীয় বৈঠকে দুটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা এমপিরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোন সুযোগ সুবিধা নেব না।”
তিনি বলেন, সংসদ সচিবালয়ের আওতাধীন আইনে সংশোধন এনে এমপিরা করমুক্ত গাড়ি নেবেন না।
প্লট নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই অবস্থানের কথা বলেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য চালু থাকা কিছু ঋণসুবিধাও আপাতত বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এমপিদের যাতায়াতের বিষয়ে আলোচনা করে কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে উত্থাপিত দাবিটি প্রথমে বিরোধী দলেরই এক সদস্য তুলেছিলেন, সরকার সেটি গ্রহণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
তবে গাড়ির দাবি ওঠার পর তিনি রসিকতা করে বলেন, “ছোটদেরকে কখনো না বলতে নাই। তাদের আবদারে সবসময় হ্যাঁ বলতে হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলে ফেলেছে, সঙ্গে সঙ্গে না বললে আমি বেশি খুশি হইতাম।”
তিনি বলেন, বড় ঘোষণার পর বিরোধী দল থেকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু পরে ‘একটা ধাক্কা’ খেয়েছেন।
রাজধানীর এমপিদের ‘বসার কক্ষ’ কোথায় হবে?
উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ করার আদেশ হলেও ঢাকা নগরীর এমপিদের জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা কোথায় হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের সদস্য সাইফুল আলম মিলন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১২ আসনের এ্ই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি জানতে পারলাম যে প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস দেওয়া হবে। কিন্তু আমি চিন্তিত হলাম যে, ঢাকা শহরে কী হবে? কারণ আমি যেহেতু ঢাকা শহরের এমপি, আমার সঙ্গে আরও আছেন, আমাদের মাননীয় বিরোধী দলের নেতাও আছেন। এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা চাচ্ছি।”
জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “যখন কক্ষ বরাদ্দের বিষয়টি উঠেছিল, তিনি তখন অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তবে টেলিভিশনে শুনেছেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অবশ্যই ঢাকা সিটি, চট্টগ্রাম সিটির ব্যাপারেও তো দেখা দরকার।” বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে বলেন তিনি।