শাহজাহান ওমরের জামিন, আব্বাস ও আলাল কারাগারেই

মির্জা আব্বাস নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পিস্তল ছিনতাই ও পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ভাঙচুরের মামলায় কারাগারে।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2023, 02:02 PM
Updated : 29 Nov 2023, 02:02 PM

বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রাজধানীর নিউ মার্কেট থানার মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান ওমরের জামিন হলেও শাহজাহানপুর থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় মির্জা আব্বাসের জামিন মেলেনি।

একইভাবে পল্টন থানার পিস্তল ছিনতাই ও পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাঙচুরের মামলায় জামিন মেলেনি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালেরও।

বুধবার শাহজাহান ওমর এবং আলালের জামিন আবেদনের শুনানি নেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফয়সাল আতিক বিন কাদের। মির্জা আব্বাসের জামিন শুনানি হয় দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বিলকিস আক্তারের আদালতে।

রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. নূরুল মোত্তাকিন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল।

গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির সমাবেশের দিন সংঘর্ষের পর ডজন তিনেক মামলা করে পুলিশ। তারপর দলটির আরো অনেক নেতকর্মীর পাশাপাশি আব্বাস, আলাল ও শাহজাহান ওমরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলালকে গত ৩১ অক্টোবর রাতে ঢাকার শহীদবাগের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরে শাহজাহানপুর থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় আব্বাসকে ৫ দিন এবং পুলিশের পিস্তল ছিনতাই ও পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাঙচুরের অভিযোগে পল্টন থানার মামলায় আলালকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে আব্বাসকে ৫ নভেম্বর এবং আলালকে ৬ নভেম্বর কারাগারে পাঠায় আদালত।

শাহজাহানপুর থানার মামলাটি দায়ের করেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। গত ২৯ অক্টোবর দায়ের করা ওই মামলায় মির্জা আব্বাসসহ ৪৯ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নয়া পল্টনে সমাবেশ শেষে বিকালে ‘মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে’ আসামিরা ‘দেশীয় অস্ত্র’ নিয়ে স্লোগান, জনমনে আতঙ্ক ও ভীতির উদ্রেক করেন। শাহজাহানপুর এলাকায় ‘নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম’ পরিচালনা ও ‘হত্যার উদ্দেশে’ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এছাড়া ‘ককটেল বিস্ফোরণ’ ও ‘পুলিশের কাজে বাধা’ দেন।

আর গত ১ নভেম্বর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের উসকানি ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পল্টন থানাধীন পুলিশ ক্যান্টিনে ভাঙচুর করে এবং পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ইটপাটকেল মেরে জাদুঘরের গ্লাস ভেঙে ক্ষতি সাধন করে।

মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। চানমারী পুলিশ লাইন্সের ডিউটি পোস্টে অগ্নিসংযোগসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে তিনদিক থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন এবং এএসআই এরশাদুল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার পিস্তল ও আট রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

Also Read: রিমান্ড শেষে কারাগারে মির্জা আব্বাস

Also Read: রিমান্ড শেষে কারাগারে বিএনপি নেতা আলাল

Also Read: বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপি নেতা শাহজাহান ওমর রিমান্ডে

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমরকে গত ৪ নভেম্বর ভোরে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে নিউ মার্কেট থানার বাস পোড়ানোর মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

বিএনপির অবরোধের মধ্যে গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় মিরপুর সুপার লিংক লিমিটেডের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় বাসচালক বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেন।

রিমান্ড শেষে শাহজাহান ওমরকে গত ৯ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।