রিমান্ড শেষে কারাগারে বিএনপি নেতা আলাল
জামিন নাকচের পর কারাগারে আলালের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ও চিকিৎসার আবেদন করা হলে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয়া হয়।
পুলিশের পিস্তল ছিনতাই, পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ক্যান্টিন ভাঙচুরের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ মাতুব্বর।
অন্যদিকে আলালের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম রাশিদুল আলম আলালের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ সময় তার চিকিৎসার কাগজপত্র জমা দেয়া হয়। জামিন নাকচের পর কারাগারে আলালের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ও চিকিৎসার আবেদন করা হলে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয়া হয়।
এ তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন অভিযুক্তের আইনজীবী নূরুজ্জামান তপন।
গত ৩১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরের শহীদবাগ এলাকা থেকে আলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
১ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক ফরহাদ মাতুব্বর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের উসকানি ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পল্টন থানাধীন পুলিশ ক্যান্টিনে ভাঙচুর করে এবং পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ইটপাটকেল মেরে জাদুঘরের গ্লাস ভেঙে ক্ষতি সাধন করে।
মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। চানমারী পুলিশ লাইন্সের ডিউটি পোস্টে অগ্নিসংযোগসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে তিনদিক থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন এবং এএসআই এরশাদুল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার পিস্তল ও আট রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ১ নভেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন।
