Published : 11 Jul 2025, 06:43 PM
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শুক্রবার দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ কথা জানিয়েছেন।
প্রিন্স বলেন, “ম্যাডামের প্রিয় শিল্পী ফরিদা পারভীন, তিনি উনার গানের একজন ভক্ত। তার শারীরিক অবস্থায় নিয়ে ম্যাডাম খুবই উদ্বিগ্ন। আমাকে বলেছিলেন, উনার অবস্থা কেমন, উন্নতি হচ্ছে কি না জেনে যেন জানাই।
‘‘ আমি বৃহস্পতিবার রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছি, পরিবারের সাথে কথা বলেছি। শিল্পীকেও আইসিইউতে গিয়ে দেখেছি এবং উনার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ম্যাডামের উদ্বেগের কথাও বলেছি ।”
ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ‘ভালো’ দেখে এসেছেন প্রিন্স।
“ম্যাডামকে শিল্পীর সর্বশেষ অবস্থা রাতেই আমি জানিয়েছি। ম্যাডাম বলেছেন, শিল্পীর শারীরিক অবস্থার যেন সবসময় আমরা খোঁজখবর রাখি।”
৭১ বছর বয়সী ফরিদা পারভীন কেবল কিডনি সমস্যা নয়, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। মাঝেমাধ্যেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।
ফরিদা পারভীনের অসুস্থতা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার খবর আসে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে। তখন বাসাতেই চিকিৎসা চলছিল, পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ৫ জুলাই মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানার আইসিইউতে নেওয়া হয়।
ফরিদা পারভীনের অসুস্থতার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর কেউ কেউ সরকারকে এই শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফরিদা পারভীনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ফরিদা পারভীনের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলেও পরিবার তরফে বলা হয়, তারা চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সক্ষম।
সরকারের কাছে ফরিদার পারভীনের পরিবারের অনুরোধ ছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে যেন মেডিকেল বোর্ড করে দেওয়া হয়।
গত বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালে গিয়ে শিল্পীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সাথে টেলিফোনে কথা বলে শিল্পীর চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া শিল্পীর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপি মহাসচিব শিল্পী পরিবারের হাতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ সহযোগিতা তুলে দেন।
ওই রাতেই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ফরিদা পারভীনের চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় দফা ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা দেখে চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
“এই বোর্ডে কিডনি, বক্ষব্যাধি, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা আছেন। স্বাস্থ্যসচিবের প্রতিনিধিও আছেন। বুধবার রাতে মেডিকেল বোর্ড প্রথম দেখেছিল, আর আজকেও উনাকে দ্বিতীয় দফায় দেখেছে। কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।”
নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান শুরুর পর লালনসংগীত দিয়ে শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পান ফরিদা পারভীন। সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে তিনি লালনসংগীতের তালিম নেন।
সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার পান তিনি।
বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৯৩ সালে।
ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে লালনের গানের যে চর্চা হয়ে এসেছে গেল পাঁচ দশক ধরে, সেটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে প্রায় ১৬ বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'অচিন পাখি সংগীত একাডেমি'।
কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা, প্রতিষ্ঠানের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়া, এবং নিজস্ব ভবন না থাকায় এ প্রতিষ্ঠানটিও টিকে থাকার লড়াইয়ে জর্জরিত।