Published : 30 Aug 2025, 09:00 PM
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে মারধরের ঘটনায় ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে জাতীয় পার্টিকে ‘বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ’ করার দাবি তুলেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের চিহ্নিত এজেন্ট জাতীয় পার্টিকেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।
“ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তার কিছুই এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। পুলিশ বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান সংস্কারও হয়নি। এখনও পুলিশ আগের মতো ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ইউনূস সরকারের জন্য চরম লজ্জার বলে আমরা মনে করি।”
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশংসিত। কিন্তু গতকাল পুলিশের সঙ্গে মিলে একজন সুপরিচিত ছাত্রনেতার ওপর হামলার কারণে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা একদমই অপ্রত্যাশিত।
“সেনাবাহিনীর ভেতরে থেকে যারা আধিপত্যবাদের ইন্ধনে প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো বিতর্কিত করতে চান, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, সেনাবাহিনী জনগণের গর্ব ও আস্থার জায়গাটি পুনরুদ্ধার করুক। পুলিশের পর্যায়ে নামিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানটিকে আবার বিতর্কিত হতে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত হবে না।”
ছাত্র-জনতা আজ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ায় সেটির সুযোগ নিতে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের দোসররা মরিয়া হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের অস্তিত্ব বিনাশ করতে চতুর্মুখী চক্রান্ত চলমান। সব চক্রান্ত ব্যর্থ করতে ছাত্র-জনতাকে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
“আজ যারা ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধকে ‘মব’ বলে বিতর্কিত করতে চায়, তারাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনে উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের সফল হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।”
বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভ্যানগার্ড আলেম-সমাজ, মাদরাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতা এখনো ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবের চেতনায় জাগ্রত আছেন।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়ান উভয় দলের নেতাকর্মীরা।
সেদিন রাতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের মশাল মিছিলের কর্মসূচি ছিল। সেটি শেষ করে গণঅধিকার পরিষদ কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের লাঠিপেটা করে।
তিনি বলেন, লাঠিপেটায় নুরুল হক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর বলেছে, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা অগ্রাহ্য’ হওয়ার পর সেনাবাহিনী সেখানে ‘মব ভায়োলেন্স’ ঠেকানোর জন্য বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।