Published : 01 Jun 2026, 03:20 PM
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে গ্রাহকরা ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, “গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। বিগত দিনে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। গ্রাহকরা মনে করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর।
“তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারও ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে পড়বে। নিজের কষ্টের জমানো টাকার নিরাপত্তা চাওয়া এবং ব্যাংকের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।”

সোমবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।
এদিন সকালে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত প্লাটফর্মটির সদস্যদের লক্ষ্য করে একপর্যায়ে টিয়ারশেল ছুড়ে ও জলকামান দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।
খানিক বাদে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ফের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সড়কের দুই প্রান্তে পুলিশ অবস্থান নিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। দুই প্রান্তে পুলিশ থাকলেও মাঝখানে ছোটো ছোটো দলে অবস্থান নিয়ে রয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ এলাকায় পুলিশ ভ্যানের পাশাপাশি জলকামান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
খুরশীদ আলমকে এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে তাকে সরানোর দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দখলে যাওয়ার আগে যারা পর্ষদে ছিলেন, তাদেরকেই পরিচালনায় ফেরাতে হবে।
আন্দোলনকারীদের ‘সাধারণ গ্রাহক’ বর্ণনা করে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার এবং লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গ্রাহকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের এই অযাচিত বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়ন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

ব্যাংক জনগণের আমানতে চলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক টিকতে পারে না। সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশের গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
“অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”
ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছর মেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খুরশীদ আলমসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের নানা ঘটনা ঘটে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা বিএনপি সরকারের সময়ে গত ২৪ মে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, “অবিলম্বে অবৈধ ও দলীয়ভাবে নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলপূর্বক কোটি কোটি আমানতকারী ও গ্রাহকদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা প্রশমন এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”