সিসিইউতে ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ খালেদা: ব্যক্তিগত চিকিৎসক

“রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ম্যাডামের কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল বোর্ড ফলাফল দেখে ব্যবস্থাপত্র দেয়,” বলেন ডা, জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 March 2024, 04:56 AM
Updated : 31 March 2024, 04:56 AM

হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

রোববার সকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ম্যাডামের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না বলে গভীর রাতে হসপিটালে এনে ভর্তি করাতে হয়েছে। এখন সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন।”

হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শনিবার রাত ৩টার দিকে তার গুলশানের বাসা থেকে ছোট ভাই সাইদ এস্কান্দারের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেই খবরে রাত ৪টার দিকে শতাধিক নেতাকর্মী বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে ভিড় করেন।

ডা. জাহিদ বলেন, “রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ম্যাডামের কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল বোর্ড ফলাফল দেখে ব্যবস্থাপত্র দেয়। দোয়া করেন ম্যাডামের জন্য। এর বেশি কিছু বলার নেই।”

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

গত বুধবার দুপুরেও খালেদা জিয়া অসুস্থ বোধ করলে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাসায় গিয়ে কয়েক ঘণ্টা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। অবস্থার কিছু উন্নতি হলে তাকে বাসায় রেখেই চিকিসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্তে ২০২০ সালের মার্চে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।

তার সেই সাময়িক মুক্তির মেয়াদ প্রতি ছয় মাস পরপর বাড়ানো হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার।

মুক্তি পাওয়ার পর কোভিড, লিভার জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বিএনপি নেত্রীকে। এর মধ্যে গত অক্টোবরে মেডিকেল বোর্ড সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে তার লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এরপর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আবারও বিদেশ নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে। তবে আইনে সে সুযোগ না থাকায় এ অনুমোদন দেয়নি সরকার।

এ চেষ্টার মধ্যে তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার পাশাপাশি বিদেশ থেকেও চিকিৎসক এসে তার চিকিৎসা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হামিদ আহমাদ আবদুর রব, ইন্টারভেনশনাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস এবং হেপাটোলজির অধ্যাপক জেমস পিটার হ্যামিলটন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার লিভারে রক্তক্ষরণ বন্ধে ট্রান্সজুগলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোরটোসিসটেমিক সান্ট (টিপস) সম্পন্ন করেন।

সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। একদিন থেকে পরদিন তিনি গুলশানের বাসায় ফেরেন।

আরও পড়ুন

Also Read: গভীর রাতে হাসপাতালে নেওয়া হল খালেদা জিয়াকে

Also Read: ৫ মাস পর বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

Also Read: ৩ ঘণ্টা পর সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

Also Read: খালেদার জন্য আসা বিদেশি চিকিৎসকরা কাজ শুরু করেছেন

Also Read: খালেদা জিয়া আবার এভারকেয়ারে ভর্তি