Published : 13 Jul 2025, 04:28 PM
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নৌকা প্রতীক নির্বাচন কমিশনের তফসিল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
পাশাপাশি শাপলা প্রতীককে তফসিলভুক্ত করে তাদের বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে নিবন্ধনপ্রত্যাশী দলটি।
রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি তুলে ধরে এনসিপির প্রতিনিধি দল।
পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দলে দক্ষিণঅঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। বেলা ১১টা থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক চলে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করে ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিধিমালার খসড়া পাঠানো ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহালের পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ওই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও নৌকা প্রতীক সেখানে বহাল রয়েছে। কিন্তু এনসিপি ও নাগরিক ঐক্যের চাওয়া শাপলা সেখানে রাখা হয়নি।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকা অবস্থায় নৌকাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়টি ইসির নজরে এনেছি। আইনগতভাবে নৌকাকে প্রতীক তালিকায় রাখতে পারে না ইসি।”

অভ্যুত্থানের শরিক বিভিন্ন পক্ষের দাবিতে সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে ইসি।
যতক্ষণ আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো সিদ্ধান্ত বা আদালতের কোনো নির্দেশনা না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক তালিকায় রাখা যাবে না বলে দাবি করেন এনসিপি নেতা মুসা।
প্রবাসী ভোটারদের ভোটগ্রহণ পদ্ধতির অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করে এনসিপি প্রতিনিধি দল।
শাপলা ও ইসি পুনর্গঠন ছাড়া বিকল্প নেই
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “নির্বাচনের আগে ইসি পুনর্গঠন করতে হবে। এটা স্ট্রেট ফরোয়ার্ড। আগের আইনটা পরিবর্তন করতে হবে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ইসিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যারা ভালো কাজের পরিচয় দিয়েছে তাদের রাখা যেতে পারে। অনেকে তাদের ব্যক্তি জায়গা থেকে একটা দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে।”
‘শাপলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শাপলা প্রতীক পেতে আইনি কোনো বাধা নেই। যদি বাধা দেওয়া হয় সেটা আমরা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করব।”
কেন আবার শাপলা দাবি করছে এনসিপি
নিবন্ধন প্রত্যাশী এনসিপি ২২ জুন দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলার জন্যে আবেদন করে। পাশাপাশি কলম ও মোবাইল প্রতীকের কথাও তারা জানায়।
এর আগে নিবন্ধিত নাগরিক ঐক্য ১৭ জুন তাদের মার্কা কেটলির পরিবর্তে শাপলা চেয়ে আবেদন করে।
কিন্তু শাপলা জাতীয় প্রতীক, এই বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন তা নির্বাচনি প্রতীকের তফসিলে রাখেনি।
জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “জাতীয় প্রতীক হচ্ছে ভাসমান শাপলা, ধানের শীষ তারা, পাটপাতা। চারটি উপাদানের মধ্যে ধানের শীষ এখন বিএনপির প্রতীক। তারকা একটি ও সোনালী আঁশ আরেকটি দলের প্রতীক। জাতীয় ফল কাঁঠালও একটি দলের রয়েছে।
“জাতীয় প্রতীক আসলে শাপলা নয়, এটাকে মিসব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। জাতীয় প্রতীক চারটি আলাদা আলাদা উপাদানের সমন্বয়ে একটি চিহ্ন।...রং, ব্যাসার্ধ সবই বিধিতে আছে।”
আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিল সংশোধনের দাবি জানানি এনসিপির এই নেতা।
তিনি বলেন, “আমরা নৌকার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছি, তালিকার ভেতরে রাখা যাবে না। এটি করতে গেলে ইসিকে ওই তালিকায় সংযোজন বিয়োজন করতে হবে। সে জায়গায় আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে নতুন দরখাস্ত দিয়েছি, শাপলাকে তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে ইসি ভুল ব্যাখ্যার উপরে দাঁড়িয়ে আছে, নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে শাপেলাকে রাখায় আইন কোনো বাধা নেই তা জানিয়েছি।”
আগামীতে এনসিপি নিবন্ধিত হলে যেন শাপলাই বরাদ্দ পায়, সে বিষয়েও আবেদন জানিয়েছে দলটি।
মুসা বলেন, “শাপলাকে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি এনসিপি নিবন্ধন শর্ত পূরণ করতে পারলে তখন যেন শাপলা প্রতীক বরাদ্দ পায়। কমিশন সাধারণত দরখাস্ত গ্রহণ করে তা বিবেচনা করে থাকে।”
নির্বাচন কমিশন আইনমন্ত্রণালয়ে প্রতীক তালিকা পাঠানোর পর নতুন করে এনসিপি আবেদন করে এবার দলটি শাপলা পাবে বলে মনে করে এ এনসিপি নেতা।
তিনি বলেন, “ইসি যখন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়; এরপরে প্রথম দল হিসেবে আমরা শাপলা চেয়ে আবেদন করি। এখন আমাদের অধিকার আগে, শাপলা আমরা পাব আশা করি।”
ইসি পুনর্গঠন
২০২২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা ‘সিইসি ও ইসি নিয়োগে আইনের’ অধীনে এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন গঠন হওয়ায় ইসি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে এনসিপি।
সেই দাবি বহাল রয়েছে জানিয়ে মুসা বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় ইসি গঠন হয়েছিল তা আমরা সমর্থন করিনি। এখনও বর্তমান আছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ইসিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যাতে স্বচ্ছ হয়, এ নিয়েও প্রস্তাব রয়েছে।”