Published : 29 Jun 2026, 03:44 PM
জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী-দুই দলকেই একে অন্যেকে সম্মান ও যৌক্তিক কারণে সহযোগিতা করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
দেশের স্বার্থে তিনি সরকারি দলের প্রতি ‘একটি ওয়ান্ডারফুল কম্বিনেশন’ নিয়ে চলারও তাগিদ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “একটা চমৎকার টেনডেন্সি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি, সরকারি দলের প্রায় সকল বক্তা বিরোধী দলের বক্তব্য কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।
‘এর অর্থ এটি নয় যে সরকারি দলের যেটা অভিপ্রায়, বুঝে না বুঝে সেটাই হবে বিরোধী দলের অভিপ্রায়। আবার এর অর্থ এটিও নয় যে সরকারি দল সংগত কোনো বিষয় নিয়ে সামনে আগালে বিরোধী দল বিরোধিতার খাতিরে শুধু বিরোধিতাই করে যাবে— এই দুইটার কোনোটাই না। সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে, আর বিরোধী দলেরও সংগত সকল ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকতে হবে। এই কথাটি আমরা প্রথম দিনেই বলে রেখেছি।’
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলছিলেন।
এসময় আমির বলেন, ‘সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে। বিরোধী দলকেও সরকারি দলসহযোগিতা করার মানসিকতা থাকতে হবে।’
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান বলেন, “মাননীয় স্পিকার, অতীত অভিজ্ঞতা আপনার আছে। আমার নেই। এখানে আরো কয়েকজন আছেন অতীতেও ছিলেন। আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না। আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “এটা তোষামোদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। দায়িত্ব পালন করা জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করি। আমি প্রথম দিন অনুরোধ করেছিলাম অতীতের ব্যাড কালচারকে আমরা না করি। এই সংসদে দাঁড়িয়ে চরিত্র হনন যেন না হয়।”
বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলীয় নেতা ‘গভীর শ্রদ্ধা’র সঙ্গে স্মরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান,, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের।
নব্বই গণআন্দোলন, ২৪ অভ্যুত্থানের শহীদ, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদেরও স্মরণ করেন আমির।
তিনি বলেন, “আমরা একটি কষ্টে ভোগা দল। এক-দুই করে ১১ জনকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
এ সময় বা দিকের আসনে উপবিষ্ট জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম দেখিয়েকে দেখিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘১২ নম্বর জন এখানে জীবিত আছেন।’
সংসদ সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, “সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। এই পার্লামেন্ট মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই আশা করি যে এই পার্লামেন্ট এমন কোনো আচরণ করবে না, যেটা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। এই পার্লামেন্ট দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাতিকে জাগিয়ে তুলবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।”
তিনি বলেন, “বাজেট বড় না ছোট, বাস্তবায়নযোগ্য বা এর সংখ্যাতাত্ত্বিক অনেক বিশ্লেষণ আছে। আমি সেদিকে যেতে চাই না। এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই সংসদে আজকে আমরা যারা আছি, একসময় আমরা একদিকেই বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ (সাল), অল্প দু-একজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত— আমি বিভক্ত বলছি না।
“কারণ, কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না। যানবাহন চালাতে হলে অন্তত দুইটা টায়ার লাগে। এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল।
“যেকোনো একটা টায়ার যদি অকেজো হয়ে যায়, পুরো যানবাহন অকেজো। সুতরাং আমরা খেয়াল রাখব, এই টায়ার দুটি যাতে সচল থাকে। এই টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ফুটো হয়ে গেলে ওই টায়ারও চলবে না, যেটা অবশিষ্ট।”
জামায়াতের আমির বলেন, সরকারি দল বাজেটের প্রশংসা করতে থাকুক, বিরোধী দল হালকা ও ভারী প্রশংসার সাথে ওয়াচডগের কাজটাও করে যাক।
বিরোধী দলীয় নেতা এদিন প্রায় ৫০ মিনিট বক্তব্য দেন।