Published : 06 Jan 2026, 11:29 PM
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করার বিষয়সহ নানা বিষয় নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউর একটি প্রতিনিধি দল।
নির্বাচনের পর দেশের উন্নয়নে বিএনপির চিন্তা-ভাবনা কী, সে বিষয়ে ইইউর প্রতিনিধি দলটি জানতে চেয়েছে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, শ্রম আইন, দেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, “আজকে ইউরোপীয় একটি প্রতিনিধি দল তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন।
“আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বড় একটা নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে মূলত তারা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। খুব ভালো এবং ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে।
ইইউর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলা বলেন, “সেখানে তাদের যে কথা ছিল, সেটা হচ্ছে যে আসন্ন নির্বাচন কেমন হতে যাচ্ছে এবং আমাদের ভূমিকা কেমন থাকবে? নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে এদেশের উন্নয়নে বিএনপির কী ভাবনা-চিন্তা।
“এই ব্যাপারে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই নির্বাচনটা যত দ্রুত সম্ভব করার দাবিটা মূলত আমাদেরই ছিল। আমরাই চাচ্ছি যে নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব, অর্থাৎ যে তারিখে নির্ধারিত আছে এই তারিখে যেন হয়, শান্তিপূর্ণ যেন হয়, অবাধ এবং সুষ্ঠ যেন হয়। এ ব্যাপারে বিএনপির যে কমিটমেন্ট বিএনপির যে আগ্রহ এটা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।”
তিনি বলেন, “তিনি (তারেক রহমান) এটাও বলেছেন যে, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন নির্বাচনে অংশ নিতে পারে নাই, ভোট দিতে পারে নাই। তারা অপেক্ষা করছে অধীর আগ্রহে যে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা তারা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। এটার জন্য আমরাও অপেক্ষা করছি।”
“নির্বাচনে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। এর জন্য যা প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার, এগুলা আমরা নিয়েছি, আমরা কাজ করছি।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংকটাপণ্ন অব্স্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গেল ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছরের নির্বাসন ভেঙে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর নির্বাচনে তারেক রহমানই নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
দেশে ফেরার পর এই প্রথম দলীয় কার্যালয়ে কোনো বিদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
‘ইইউকে ধন্যবাদ’
বাংলাদেশের উন্নয়নের সহযোগিতার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তারেক রহমান ধন্যবাদ জানিয়েছেন তুলে ধরে নজরুল ইসলাম বলেন, “তিনি (তারেক রহমান) আশা করেছেন, তাদেরকে অনুরোধও করেছেন যে, আগামী দিনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যেন আরও বেশি সহযোগিতা করে, বাংলাদেশের উন্নয়নে যেন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাতে বাংলাদেশের জনগণ উপকৃত হয়।
“তারা বলেছেন যে তারা আরও বড়ভাবে, আরও অধিক পরিমাণে সহযোগিতা নিয়ে তারা আগামী দিনে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে, তাদের বেশ কিছু ‘কনসার্ন’ ছিল বিশেষ করে শ্রমিক অধিকারের ব্যাপারে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কল্যাণে বিএনপি সরকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব ভূমিকা পালন করেছে।
“সর্বশেষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার আমলেই বাংলাদেশ লেবার কোর্ট, যেটা সংশোধনের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছিল…এটাও উনিই করেছেন, লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন করেছেন। এরকম শ্রমিকদের কল্যাণে বিএনপি সবসময়ই আগ্রহী।
“শ্রম আইনের যে পরিবর্তন, যা হয়েছে এবং শ্রমিকদের কল্যাণের জন্যই যা কিছু হয়েছে, এগুলো সব শুধু রক্ষা করা নয়, সেগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি আগ্রহী।”
‘আমরা চাই, নির্বাচনে শান্তি থাকুক’
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “আমরাই চাই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ হোক। আমরাই চাই নির্বাচনে শান্তি থাকুক।
“আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উনি বিদেশ থেকে ফিরে প্রথম যে সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানেই উনি সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ করেছেন যে শব্দ, সেটা হলে শান্তি-সমঝোতা।”
তিনি বলেন, “বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায় নাই। এই নির্বাচনটা অবাধ-সুষ্ঠ হবে, শান্তিপূর্ণ হবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখানে প্রকাশিত হবে …এইটা ধারণা করেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার একটা বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে।
“কাজেই আমরা মনে করি যে এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনই ব্যক্ত হয়েছে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে সেই সরকারকে অধিকতর সহযোগিতা করবে তারা।”
‘নির্বাচনের পরিবেশ আলহামদুলিল্লাহ’
এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ এখন যে আছে আলহামদুলিল্লাহ, ভালোইতো আছে। কাজেই এ নিয়ে অন্যদের (বিদেশি) বলার কি আছে?
“আর আরেকটা (কথা) আপনাদেরকে আমি বলে রাখি আর কি… সেটা হল, এই নির্বাচনটা আমাদের দেশের, এই নির্বাচনটা আমাদের। এই ব্যাপারে অন্যদের কথা, আপনারা কেন এটা নিয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেন।”
ইইউর প্রতিনিধি দলের নেতত্ব দেন রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।