Published : 06 Oct 2025, 01:45 PM
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন অংশের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ।
রোববার সন্ধ্যায় দলের চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসরুর মওলার গুলশানের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনি অনুসন্ধান দল।
বৈঠকে অনুসন্ধানী দলের প্রধান মেটে বাক্কেন ও সদস্য ম্যানুয়েল ওয়ালি অংশ নেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসরুর মওলা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং নির্বাচন পরবর্তী ফলোআপ প্রক্রিয়াসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের বিষয়ে মাসরুর মাওলা বলেন, “বাংলাদেশ সফররত ইইউ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এর অংশ হিসাবেই জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের এ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের (জাতীয় পার্টির) পরিকল্পনা জানতে চান।
“বৈঠকে আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তাদেরকে জানিয়েছে, জাতীয় পার্টির নির্বাচনমুখী দল। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের আগে যে পরিবেশ দরকার, সেই ধরনের স্থিতিশীল পরিবেশ এখনো দেশে দৃশ্যমান নয়।”
জাতীয় পার্টি বর্তমানে তিন খণ্ডে বিভক্ত। দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিনী রওশন এরশাদ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাদা হওয়ার পর নীরব থাকলেও এখন তার অংশটি বলছে, তারাই লাঙলের ‘একমাত্র দাবিদার’।
আর জি এম কাদেরের ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সুযোগে গেল ৬ অগাস্ট ‘ঐক্য সম্মেলন’ করে আলাদা হয়ে যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ দলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। রওশনের অংশ থেকে বেরিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তারা নিজেদের ‘মূল জাপা’ দাবি করে ইসিতে চিঠি দিয়েছে। আর জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশনে এখনো নিবন্ধিত আছে।