Published : 13 Dec 2023, 08:03 PM
দ্বাদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদের হিসাব দেখে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগে’র প্রসঙ্গ টেনেছেন।
বুধবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিঙে সরকারের মন্ত্রী সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হলফনামার হিসাব চিত্র তুলে ধরে এই মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।
রিজভী বলেন, ‘‘মন্ত্রী-এমপি, ডামি ও ‘উচ্ছিষ্টভোগী’ স্বতন্ত্রদের হলফনামা পড়লে মনে হয় যেন আরব্য উপন্যাসের সেই বিখ্যাত আলাদিনের চেরাগ …সেই কাহিনী পড়ছিলাম।
“কারোটা দেখলে মনে হয় সাদ্দামের বেহেশতে তারা বসবাস করছেন। তাদের বাড়ি-গাড়ি, বিদেশে অভিজাত এলাকায় তাদের অ্যাপার্টমেন্ট, তাদের ডুপ্লেক্স সব কিছু মিলেই মনে হয় যে, তারা সাদ্দামের বেহেশতে বসবাস করছেন।”
বিএনপি নেতা বলেন, “৫ বছর থেকে ১৫ বছরের মন্ত্রী-এমপি ও তাদের নেতারা অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়ে্ছেন, অনেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নয়, বট গাছ হয়েছেন। তাদের স্ত্রী-সন্তান-শাশুড়িরাও ‘টাকার কুমিরে’ পরিণত হয়েছে।”
সাধারণ ব্যবসায়ীদের লোকসান হলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিকদের কোনো লোকসান নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আওয়ামী রাজনীতি এমন একটি ব্যবসা যেখানে কোনো ঝুঁকি নেই এবং লোকসান হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই।
“যে ব্যবসাই করছেন তাতেই লাভ আর লাভ। শেয়ার ব্যবসায় তারা কেউ ক্ষতির মুখোমুখি হননি, কৃষিখামার এবং মাছের ব্যবসাতেও বহু গুণ লাভ করেছেন। স্বামীদের ব্যবসা দেখাশোনা করতে গিয়ে স্ত্রীরাও কোটি কোটি টাকা-অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন।”
রিজভী বলেন, ‘‘হলফনামা ধরে প্রতিদিন প্রাত্যহিক সংবাদপত্রে নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পদের যে বিবরণ প্রকাশিত হচ্ছে তা দেখে জনগণের চক্ষু চড়কগাছের অবস্থা। … এটাও সম্ভব! একেকজন মানুষের সম্পদ ২০০ গুণ, ৩০০ গুণ, ৪০০ গুণ ৫০০ গুণ, কেউ আবার পাঁচ বছরে ৭০০ গুণ সম্পদেরও মালিক হয়েছেন।
‘‘অবস্থা এমন হয়েছে যে, টাকার পাহাড়ে ঘুমান মন্ত্রী-এমপি-নেতারা। যে মন্ত্রী-এসপি নিজেকে কৃচ্ছতা সাধনের বরপুত্র বলে জাহির করতেন কিংবা যিনি জনসমুখে সততার পরাকাষ্ঠ প্রদর্শনের নাটক করতেন তাদের ‘শঠতার বীভৎস বিগ্রহ’ জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।”