Published : 12 Jan 2026, 04:10 PM
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম।
সোমবার নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার আপিল শুনানি করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নির্বাচনি এলাকার মোট ভোটারের ১% সমর্থন তালিকায় গরমিলের কারণে গত ৩ জানুয়ারি হাসনাত কাইয়ূমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। ইসির শুনানিতে আপিল আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় এখন ভোট করতে পারবেন তিনি।
নির্বাচন ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাইরে ফেলে দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।”
নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের এ প্রার্থী বলেন, “প্রাথমিক যাচাইয়ে ১০ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জনকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তদন্তে ভোটাররা ভয় পেয়ে চেনেন না বা স্বাক্ষর দেননি বলে বক্তব্য দেন।
“পরে আপিল করে আজ দুজন ভোটারকে নির্বাচন কমিশনের সামনে উপস্থিত করা হলে কমিশন তাদের বক্তব্য যাচাই করে আপিল মঞ্জুর করেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।”
নিবন্ধনহীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক আপিল ও আপিল মঞ্জুরের হার দেখলেই বোঝা যায়, স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বড় দলগুলোর প্রভাবে কী মাত্রায় প্রভাবিত করছে।”
এ ধরনের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, “এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নয়, এটি সংবিধান সংস্কারের দিকেও যেতে পারে। এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
“সেই দায় শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর পড়লেও ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকেই। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।”