Published : 28 Jul 2026, 11:10 PM
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানো উচিত হয়নি বলে জানিয়েছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি।
গত ১২ জুলাই ক্যানসাস সিটিতে সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড। দশম মিনিটে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণে তাদেরকে কোণঠাসা করে ফেলে সুইসরা। গোল শোধ করে লাতিন আমেরিকার দলটিকে চাপে রাখে তারা।
দারুণ খেলতে থাকা অবস্থায় ৭২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। একটি ‘ফাউলের ঘটনায়’ শুরুতে আর্জেন্টিনার লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে পরে ভিএআর রেফারির হস্তক্ষেপের পর মাঠের পাশের স্ক্রিনে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্তে পৌঁছান, ইচ্ছে করেই ডাইভ দিয়েছেন এমবোলো।
তাই পারেদেসের কার্ড বাতিল করে, ভান ধরার শাস্তি হিসেবে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। শুরুতে তীব্র প্রতিবাদ জানান ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড, পরে মাঠ ছাড়েন কান্নায় ভেঙে পড়ে।
এমবোলো ওই হলুদ কার্ড দেওয়া যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না, সেটা মঙ্গলবার জানায় আইএফএবি। তারা বিষয়টা পরিষ্কার করেছে যে, কোনো খেলোয়াড়কে ভুলভাবে হলুদ কার্ড দেখানো হলে সেক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে; তবে ওই ঘটনা পর্যালোচনায় বা ফাউল হয়েছে কী হয়নি, সেক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা যাবে না।
“একটি হলুদ কার্ড (সতর্কীকরণ), যা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নয়, শুধুমাত্র শাস্তিযোগ্য অপরাধটি সংঘটনকারী খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার জন্য পর্যালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু অপরাধটির পর্যালোচনা বা পরিবর্তন করা যাবে না।
“ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালীন সিমুলেশন মোকাবেলায় 'মিসটেকেন আইডেনেটিটি' ধারাটির ব্যবহার প্রশংসিত হয়েছে এবং এটি ভিএআর প্রোটোকলের বিস্তারিত পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে... তবে, সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি সরাসরি ব্যবহার করা যাবে না।”
এমবোলো বহিষ্কার হওয়ার পর, ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে সুইজারল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে দুই গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায় ৩-১ ব্যবধানে। তাতে শেষ হয়ে যায় তাদের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলার আশা।
ম্যাচের পর সেদিন এমবোলোর লাল কার্ডের নিয়মটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছিলেন সুইসদের কোচ মুরাত ইয়াকিন।
“এটা আজ আমাদের খেলাটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের এটা মেনে নিতেই হবে, তবে এভাবে হেরে যাওয়া সত্যিই বেদনাদায়ক।”
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভাঙে আর্জেন্টিনার।