Published : 11 Nov 2025, 03:52 PM
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি, নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে সমাবেশ করছে ধর্মভিত্তিক আট রাজনৈতিক দল।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে পল্টন মোড়ে এ সমাবেশ শুরু হয়েছে।
পিআর পদ্ধতি চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে চার মাস ধরে আন্দোলন থাকা ইসলামী আটটি দলের মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
সমাবেশে যোগ দিতে সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে আসছেন দলগুলোর নেতাকর্মীরা। স্লোগান, ব্যানার আর পতাকায় মুখর পুরো এলাকা এখন লোকে লোকারণ্য। ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কর, গণভোটের তারিখ দাও’, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই’— এমন সব ব্যানার, প্ল্যাকার্ডে ছেয়ে গেছে পুরো পল্টন মোড়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংকট সমাধানে আলোচনার পথ জনগণ বন্ধ করেনি, সরকারই রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সেই পথ আটকে দিয়েছে।
“জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে চার মাসব্যাপী যে আন্দোলন চলছে, সেটি এখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, “আমরা চাইনি সংঘাতে যাক। আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান হোক—এটাই ছিল আমাদের অবস্থান। কিন্তু সরকার সে পথে হাঁটেনি। বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দলের চাপে জনতার আকাঙ্ক্ষাকে স্থবির করে দিয়েছে, যা সরাসরি জনমতের বিপরীত।
“জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোট ও আরও তিন দফা দাবিতে আট দলের আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং জনগণের ইচ্ছা ও ক্ষোভের প্রকাশ।”
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “গত চার মাসে আমরা চার পর্বের আন্দোলন করেছি। আজ চলছে পঞ্চম পর্ব। আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত—এটা আর সাধারণ সমাবেশ নয়, একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা।”
সরকারের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ বহুবার দেওয়া হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনতার আকাঙ্ক্ষাকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই গণভোট এখন শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং অবধারিত একটি জাতীয় সিদ্ধান্তের পথ। আন্দোলন আর ছড়িয়ে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, “আজকের ঘোষিত বার্তা যদি যমুনা পেরোতে না পারে, তাহলে রাস্তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোনো দলের অবস্থান নয়—বরং লুণ্ঠন, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্রীয় জুলুমের কাঠামো।”
দলগুলোর পাঁচটি দাবি হলো—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয়কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু; সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন; আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, খেলাফত মজলিসের আমির আব্দুল বাসিত আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল হক চাঁন উপস্থিত রয়েছেন।