Published : 19 Mar 2026, 08:55 PM
ঈদের দিন মিন্টো রোডের সরকারি বাসাতেই শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান; তবে তিনি এই বাসায় উঠবেন বসবাসের জন্য পুরোপুরি তৈরি হওয়ার পর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায়, মিন্টো রোডের ২৯ বাসভবনের গেটের সামনে জামায়াত আমিরের ছবিসংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেখানে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল সামিয়ান টানিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে, যার এক দিকে স্টেজ, সেখান থেকে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিরোধী দলীয় নেতা।

অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্যান্ডেলের ভেতরে। আর ভবনের ভেতরে কিছু অতিথিকে নিয়ে বসার জন্য সোফা বসানো হয়েছে।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঈদের দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিরোধী দলীয় নেতা।
“বাইরে প্যান্ডেল আমরা করছি। আর বাসার ভেতরে একটু বসার ব্যবস্থা হয়েছে।”

তবে এ বাসায় স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আরও কিছু সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, “উনি উঠবেন পরে, কারণ এখনও এটা কমপ্লিট হয় নাই। অনেকদিন এটা বন্ধ ছিল, বসবাসের জন্য এখনো রেডি না, একটু সময় লাগবে।”
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ করা এই বাড়ির সংস্কার কাজ চলছে পুরোদমে। পাশাপাশি চলছে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
পুরনো আমলের দোতলা ভবনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যায়। এক সময় ভবনটি ছিল লাল রঙের। তবে এখন সংস্কার কাজের মধ্যে সেই রং আর নেই।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই বাড়িতে উঠেছিলেন।

এরপর ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত এখানেই নিয়মিত অফিস করেছেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বাড়িটি তখন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকত। মানুষের যাতায়াতে প্রাণবন্ত থাকত চারপাশ।
২০০১ সালে তিনি বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার পর গত ২৫ বছর কোনো বিরোধী দলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি।