এবার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের পদও হারালেন রাঙ্গাঁ
তাকে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথাও একই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে তাকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার জাপা চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রের (ধারা ২২ উপধারা ২) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এছাড়া দলীয় গঠনতন্ত্রের ক্ষমতা এবং গত ৮ অক্টোবর প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাঙ্গাঁকে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথাও একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাঙ্গাঁকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদ পদবি থেকে অব্যাহতি দেন জাপা চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে রাঙ্গাঁ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চেয়ারম্যান এখতিয়ার বর্হিভূত কাজ করেছেন। অনধিকার চর্চা করেছেন।“
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “তিনি (জিএম কাদের) দলের চেয়ারম্যান, কিন্তু সংসদে চিফ হুইপ রাখা না রাখার ব্যাপারে দল ওনাকে এ ক্ষমতা দেয় নাই। এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শুধু রওশন এরশাদ।“
জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশনের সঙ্গে কথা হয়েছে দাবি করে রাঙ্গাঁ জানান, চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রওশন এরশাদ সংবাদ মাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন।
পদ হারানো নিয়ে আলোচনায় থাকা জাতীয় পার্টির এই নেতা জানান, এসব বিষয়ে আগামী দু-একদিনের মধ্যে তার অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
পরিবহন মালিক সমিতির নেতা রাঙ্গাঁ একাদশ সংসদে রংপুর ১ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ জীবিত থাকাকালে ২০১৮ সালে রাঙ্গাঁকে দলের মহাসচিব করেছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে তাকে সংসদে বিরোধী দলের প্রধান হুইপ করা হয়।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার একদিন পর সাবেক মহাসচিব রাঙ্গাঁ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দল যদি ‘গণতান্ত্রিকভাবে’ না চলে তো সেই দলে তিনিও থাকতে চান না।
তিনি বলেন, “আমি আমার অব্যাহতির আদেশে আনহ্যাপি নই। তবে আমি আমার বহিষ্কার (অব্যাহতি) আদেশ প্রত্যাহার চাই। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যুদ্ধ করে দলে থাকা যায় না।”
