Published : 13 Mar 2026, 06:52 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্র ফেডারেশন।
সংসদে ‘যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি নমনীয়তা’ জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের সঙ্গে ‘বেইমানি’ বলে মনে করছেন সংগঠনটির তারা।
শনিবার বিকেলে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতীয় সংসদে একাত্তরের ঘাতক-দালাল ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের সাথে স্পষ্ট বেঈমানি, যা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।
“যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্ন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এই দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, কিন্তু তাতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের কলঙ্কিত ঐতিহাসিক ভূমিকা কোনোভাবেই মিথ্যা হয়ে যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় ইতিহাসে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে।”
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
বিবৃতিতে ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছিল একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লড়াই। সেই লড়াইয়ের পর গঠিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি এই ধরনের নমনীয়তা জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের সাথেও বেঈমানি। প্রকৃত জাতীয় পুনর্গঠন তখনই সম্ভব, যখন ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সংঘটিত সকল গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের যথাযথ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
“বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় রেখে কোনোদিনই প্রকৃত জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠতে পারে না। তাই অবিলম্বে জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে উল্লেখিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানাই এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত হত্যাকাণ্ডসহ সকল অপরাধের ন্যায়বিচারের দাবি জানাই।”
পুরনো খবর