উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 04 Jun 2026, 03:01 PM
দেখা থেকেও শেখা যায়- আফঈদা খন্দকারের জন্য পিটার জেমস বাটলারের মূল বার্তা এটাই। ভারত ম্যাচে বেঞ্চে বিমর্ষ হয়ে বসে ছিলেন এই ডিফেন্ডার। প্রথমবারের মতো সেরা একাদশে জায়গা হারানোর হতাশার প্রবল উপস্থিতি ছিল তার চোখে-মুখে। সেসব ঝেড়ে ফেলে নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে যে দৃঢ়তায় তিনি রক্ষণ আগলে রাখলেন, তাতেই বাটলারের মনে হচ্ছে, তার তরুণ শিষ্যটি হয়ে উঠছে চমৎকার ফুটবলার।
সাম্প্রতিক সময়টা অবশ্য নানা কারণে ভালো যাচ্ছিল না আফঈদার। পারফরম্যান্সের ভাটার টানে হারান অধিনায়কত্ব। উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে এসে মালদ্বীপ ম্যাচেও ছিলেন না স্বরূপে। তার ভুলে দল হজম করে গোলও।
ভারত ম্যাচে তাই আফঈদাকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখেন বাটলার। তবে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ফেরান সেন্টার-ব্যাক পজিশনে। গীতা রানীর কাছে একবার পরাস্ত হন আফঈদা, কিন্তু সময়ের সঙ্গে রক্ষণের লাগাম তিনি শক্ত হাতে মুঠোয় নিতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। ১৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বাটলারের দৃষ্টির আড়াল হয়নি।
“আমি আশা করি তাই, (চেনা রূপে ফিরছে আফঈদা)। আমি কোনো ঈর্ষাপরায়ণ মানুষ নই। শুধু শুধু কাউকে দল থেকে বাদ দিই না কিংবা বসিয়ে রাখি না। আমি যা করি, তার পেছনে কারণ থাকে। আমার বয়স তো কম হলো না। এই অঙ্গনে অনেকদিন ধরে আছি। আমি বুঝি, খেলাটা কীভাবে চলে এবং কাজ করে। আর কখনো কখনো আপনি যত কম খেলবেন, দেখবেন, তত বেশি সমৃদ্ধ হবেন। তাই আমার মনে হয়, সে শিখবে। আশা করি, সে শিখবে।”
“আমার মনে হয়েছে আজ (নেপালের বিপক্ষে) সে খুব ভালো করেছে। আমি তাকে দলে নিয়ে এসেছিলাম যাতে, সে আমাদের খেলায় কিছুটা স্থিতি ও শান্ত ভাব এনে দিতে পারে। বিশেষ করে, কোহাতি কিসকুর সাথে রক্ষণে আস্থা দিতে পারে। আমার মনে হয়, আফঈদা সত্যিই দারুণভাবে বড় হচ্ছে। তার বয়স মাত্র ১৮ বছর (১৯ বছর), কিন্তু ও একজন চমৎকার ফুটবলার হয়ে উঠছে।”
মালদ্বীপ ও ভারত ম্যাচের রক্ষণের বিবর্ণতা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত নেপাল ম্যাচে মিলেছে, কিন্তু প্রত্যাশিত দৃঢ়তা দেখা যায়নি এখনও। বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের, বিশেষ করে ডিফেন্ডারদের নিয়ে নিজের মূল্যায়নও তুলে ধরলেন প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্বে থাকা এই ইংলিশ কোচ।
“আমার মনে হয়, এই অঞ্চলের রক্ষণভাগ, বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবলে, আপনি কখনোই নিখুঁত সংমিশ্রণ পাবেন না। সবসময়ই প্রতিকূলতা এবং সমস্যার মুখোমুখি হবেন। এই মেয়েদের ক্ষেত্রে আপনাকে যা মনে রাখতে হবে, তা হচ্ছে, তাদের অনেকেরই অতীতে সঠিকভাবে কোচিং করানো হয়নি। আর এটা কখনো কখনো কিছু খারাপ অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়ও।”
“মানুষ হাই-লাইন ডিফেন্স নিয়ে কথা বলে, মানুষ মিড-ব্লক বা লো-ব্লক নিয়ে কথা বলে; আমি এসব আজগুবি ও কাল্পনিক তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। আমি পুরান ঘরানার মানুষ। আমি বিশ্বাস করি, যেখানে আঘাত লাগার ভয় আছে সেখানে মাথা গলিয়ে দেওয়া, পা বাড়িয়ে দেওয়া, আক্রমণাত্মক হওয়া, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এবং ধৈর্য ধরা। আমি মনে করি এই গুণগুলোই মূলত (নেপাল) ম্যাচের শেষ দিকে আমাদের সেই ঝড়টা সামলাতে সাহায্য করেছে।”