Published : 04 Jun 2026, 02:56 PM
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের সংযোগ কে বা কারা বিচ্ছিন্ন করেছিল, তিন দিনেও সেই রহস্যের কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা ছায়া তদন্ত করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত করছে। এখনো বলার মত কোনো অগ্রগতি হয়নি।"
এবারের কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, ওই লাল টেলিফোনে সংযোগ নেই।
বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টা পর সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।
বিটিসিএলের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই লাল টেলিফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে সোমবার শাহবাগ থানায় জিডি করেন। পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা এ নিয়ে কাজ করলেও গত তিন দিনে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিটিসিএলের করা সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল।
জিডিতে বলা হয়, ভবনের ছাদে কপার কেবল ‘দুর্বৃত্তরা’ কেটে ফেলে। ফলে ওই লাল টেলিফোন নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাহবাগ থানার ওসি বৃহস্পতিবার মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এই ঘটনায় জিডি হওয়ার পরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে। আমরাও খতিয়ে দেখছি।"
আর সচিবালয় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুল কবীর বলেন, “রহস্য উদঘাটনে আমরাসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। সময়মত আমরা আপনাদের অবহিত করব, তবে এখনো সে পরিস্থিতি হয়নি।"