১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় যে কোনো দিন

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সবাইকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় যে কোনো দিন
ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 07:47 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ সিদ্ধান্ত দেয়।

ফলে যে কোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে বলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।

এদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনগত বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়। অডিও-ভিডিওতে প্রমাণ মিলেছে যে, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির (শুট অ্যাট সাইট) নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। এর ফলে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।”

পরে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ এর ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতে বলেন, “আন্দোলন দমনে নেমে একজন মানুষ মারা গেলেও নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে আসামিরা সমান অপরাধী বলে গণ্য হবেন।”

গত ১২ অগাস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘প্রমাণিত হয়েছে’ দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার মক্কেলরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি।

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনে তার মক্কেলদের নাম আসেনি এবং তারা অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।

জবাবে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ অগাস্ট পর্যন্ত চলা বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। মামলায় কোনো নারী সাক্ষী না থাকা এবং ভিডিওতে আসামিদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকার প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি চার আসামির খালাস চান।

সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌশুলি গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন।

শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে, মামলার বিচারকার্য শেষ হয়েছে। এখন যে কোনো দিন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করবেন। হয়তোবা রায় ঘোষণার একদিন বা দুই দিন আগে আপনাদেরকে ট্রাইব্যুনাল জানাবেন, আমাদেরকে জানাবেন।”

এর আগে ২ অগাস্ট এ মামলায় অতিরিক্ত সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ হয়। ২৬ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পর সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণে জেরা শেষ করা তদন্ত কর্মকর্তারও পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

প্রথম দফায় ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্কের জন্য ১৭ মে দিন ধার্য হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি নেওয়ার কারণে যুক্তিতর্কের কার্যক্রম পিছিয়ে যায়।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে এ মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক জবানবন্দি দেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা ‘সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানসহ একাধিক বৈঠকে ‘সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে’ তারা ভূমিকা রাখেন।

এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে তামীম বলেন, “আসামিরা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচার এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন অনলাইন, পত্রিকা ও গণমাধ্যমে তারা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার মানে উনারা জেনে শুনে এই বিচারকে অবহেলা করছেন।”

এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ (জেসিই ) এর অভিযোগের বিষয়ে তামীম বলেন, একই উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যক্তি কোনো অপরাধে যুক্ত হলে ওই গ্রুপের প্রত্যেক সদস্যের দায়ের বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে।

“জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ হতে গেলে তিনটি জিনিস থাকা লাগে। একটা হল একের অধিক ব্যক্তি এই অপরাধে সম্পৃক্ত থাকতে হয়, যেটা জুলাইতে আমরা দেখেছি। দুই নম্বর হল সকল অপরাধীদের একটা কমন ইনটেনশন থাকতে হয়, সেটা হল এই আন্দোলন দমন করাই ছিল তাদের কমন ইনটেনশন। তিন নম্বর দেখিয়েছি যে, উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, গ্রাউন্ডে গিয়ে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে এই পুরা গ্রুপের প্রত্যেকেই অপরাধী হবে।”

এ বিষয়ে বসনিয়ার একটি গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক মামলার রায়ের উদ্ধৃতি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।

আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তামীম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(২) ধারায় শাস্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

আপিল বিভাগের বিভিন্ন রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “এ আইনের অধীনে প্রতিটি অপরাধই গুরুতর, নৃশংস ও জঘন্য অপরাধ।”

তামীম বলেন, “আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের কাছে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। আর মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অন্য কোনো শাস্তি দিতে হলে কেন তা দেওয়া হচ্ছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

“এটা হলো আইনের স্পিরিট, এটা হলো অ্যাপিলিয়েট ডিভিশনের ডিসিশন, এটা হল ট্রাইব্যুনালের জাজমেন্ট।”

তিনি বলেন, “আমরা আজকে এই আর্গুমেন্টটাই করেছি যে এই সকল আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।”

‘হত্যা, সহায়তা ও নির্দেশ দেওয়ার’ দায়

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যা, সহায়তা ও নির্দেশ দেওয়ার দায় প্রসঙ্গে তামীম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারার বিভিন্ন উপধারায় হত্যা, অ্যাবেটমেন্ট, অ্যাটেম্পট, কমপ্লিসিটি এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মত বিষয়গুলো পৃথক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং এসব অপরাধের শাস্তি সমান।

তিনি বলেন, “সাবঅর্ডিনেটরা যারা গ্রাউন্ডে হত্যা করেছে, তারা হত্যার জন্য দায়ী। আর যিনি সুপিরিয়র হিসেবে তাদেরকে কমান্ড করেছেন, যিনি বলেছেন ‘মারো, পিটাও, এখন থেকে দেখা মাত্র গুলি হবে’—এই সকল বক্তব্য দিয়ে অর্ডার দিয়ে যিনি তার সাবর্ডিনেটদেরকে দিয়ে ওই অফেন্স কমিট করেছেন, যে গ্রাউন্ডে অফেন্স করেছে তার জন্য হত্যার শাস্তি, যিনি হত্যার জন্য উসকানি দিয়েছেন তার জন্য উসকানির শাস্তি। কিন্তু আমাদের আইনে এই সকল অপরাধের শাস্তি সমান।”

‘ঘটনাস্থলে না থাকা ও আনুপাতিক বলপ্রয়োগের’ যুক্তি

আসামিপক্ষের ‘ঘটনাস্থলে না থাকা’ এবং আন্দোলন দমনে ‘প্রোপোরশনেট ফোর্স’ বা আনুপাতিক বলপ্রয়োগের যুক্তির বিষয়ে তামীম বলেন, “আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ইট, আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল লাঠি। তার বিরুদ্ধে আপনি লেথাল উইপন ব্যবহার করে গুলি করে মগজ উড়িয়ে দেবেন—এটা কখনোই প্রোপোরশনেট হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “শুধু ঘটনাস্থল দেখলে হবে না; কেন এই শক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর আদেশ থেকে অধস্তন পর্যায়ে কীভাবে তা পৌঁছেছিল এবং মধ্যবর্তী নেতারা কীভাবে সেই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেসবও বিবেচনা করতে হবে।”

দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

তামীম বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রকাশ্যে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ও পিস্তল’ ব্যবহার করে সরাসরি গুলি করার ছবি ও ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিবিসির একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তথ্যসংবলিত একটি মানচিত্র ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তামীম বলেন, “তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত, আবার এই কর্নার থেকে ওই কর্নার পর্যন্ত—আমরা যেটা বলি রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্পটেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।”

তিনি বলেন, তারা ট্রাইব্যুনালে বিষয়টিকে ‘ওয়াইড স্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক অ্যাটাকের উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তামীম বলেন, ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের সঙ্গে তার ফোনে কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ‘পেটানো ও মারধরের’ বিষয়ে কথা হয়েছিল।

“১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলার পর ১৫ জুলাই ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই আন্দোলনকারীদের জন্য জবাব দিতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট’।”

তামীম বলেন, ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রতিরোধ গড়ে তোলোর’ কথা বলেছিলেন। এ বক্তব্যের পক্ষে তারা পত্রিকার কাটিং ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছেন।

সাত আসামির ‘অভিন্ন দায়’

তামীম বলেন, ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং অন্য আসামিরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

“তাদেরই সাবর্ডিনেট বা তাদেরই নিয়ন্ত্রিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর আক্রমণের মাধ্যমে তারা এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা করেছেন, নির্যাতন করেছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।”

পুরনো খবর

শেখ হাসিনার 'কল রেকর্ড' ট্রাইব্যুনালে: 'তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব'

ওবায়দুল কাদেরকে 'পলিটিক্যাল ক্লাউন' বললেন প্রধান কৌঁসুলি

কাদের ও আরাফাতের কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে: 'মারামারির ভিডিও দেখালে

ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলায় সাক্ষ্য শেষ, যুক্তিতর