ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলায় সাক্ষ্য শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ অগাস্ট
গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
জুলাই আন্দোলন দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ৪ অগাস্ট দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দিয়েছে।
এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অপর আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তারা সবাই পলাতক।
এ মামলায় প্রথম দফায় সাক্ষ্য শেষ হয় গেল ২৭ এপ্রিল। ওই সময় যুক্তিতর্কের জন্য দিনও ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি নেওয়া হয়।
জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় আবার জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রোববার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। এরপর যুক্তিতর্কের জন্য দিন ঠিক করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়।
প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, আসামিরা জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিরা ভূমিকা রাখেন।
তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ অগাস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।
