ঢাকা, জুলাই ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর সংবিধানের সংশোধনী ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।
বুধবার দলটির গণঅনশন কর্মসূচিতে বক্তব্যে খালেদা বলেন, "আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন সংশোধনী এনেছে। আমরা বলতে চাই- এসব সংশোধনী আওয়ামী ইশতেহার। এটা জনগন মানে না।
"তাই আগামী সরকার পরিবর্তনের পর এসব সংশোধনী ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।"
গত ৩০ জুন সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। বিএনপি শুরু থেকেই সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতা করে আসছিলো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "এই পদ্ধতির সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া কেবল হাসিনা-এরশাদ দিয়ে এ দেশে নির্বাচন করা হলে তা জনগন মেনে নেবে না।"
ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ওই ইতিমধ্যে বলেছেন, নির্বাচনে কে এলো না এলো তা কোনো বিষয় নয়। জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলেও বিভিন্ন সময় তিনি উল্লেখ করেছেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পুলিশের লাঠিপেটা, নেতা-কর্মীদের ওপর গ্রেপ্তার-নির্যাতন এবং পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে বিএনপি গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে। সরকারে আড়াই বছরে এটি বিএনপির প্রথম গণঅনশন কর্মসূচি।
১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বুধবার বলেন, "৮৬ সালের ওই নির্বাচনের পরিণতি দেশবাসী জানে। এখনো তারা পুরনো বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে। তা নিয়ে কাজ হবে না।"
তিনি অভিযোগ করেন, আদালতকে ব্যবহার সরকার সুকৌশলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে 'ঠুটো জগন্নাথ ও সরকারের আজ্ঞাবহ' অভিহিত করে খালেদা জিয়া বলেন, "এই কমিশন চলবে না। তা বাতিল করে আলোচনার মাধ্যমে সবার গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠন করতে হবে।"
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/পিডি/২২৩৮ ঘ.