Published : 04 Jan 2026, 12:50 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হচ্ছে রোববার। এরই মধ্যে রাজনীতির পরিচিত মুখ, দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে হৈ চৈ হচ্ছে।
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দলীয় প্রত্যয়ন সঠিক না হওয়া, হলফনামায় প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত ও সই না করা, ঋণখেলাপি, মামলার তথ্য না দেওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। পরদিন থেকে নয়দিনে এইসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অর্ধশত দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটে অংশ নিচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চির বিদায়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সূচনা হওয়া নতুন অধ্যায়ের প্রথম নির্বাচনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আলোচনার কেন্দ্রে।
তাদের শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে থাকা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও রয়েছেন মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে।
এই তিন দলের প্রধানদের মনোনয়পত্র বৈধ ঘোষণা করা হলেও জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে একই নামে দল গঠন করা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
দেশের রাজনীতিতে আরেক পরিচিত মুখ নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র এক আসনে বাতিল হয়েছে, আরেক আসনে হয়েছে বৈধ।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নামা তাসনিম জারাও হোঁচট খেয়েছে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায়।
বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে বড় দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৫০০ সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োজিত রয়েছেন এবার।
২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ে ৩০০ আসনে আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে ৪৭৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বাদ পড়ার রকম ফের
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিভিন্ন কারণ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা তুল ধরছেন, সেগুলোর মধ্যে আছে- দলীয় প্রত্যয়ন সঠিক না হওয়া, হলফনামায় প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত ও সই না করা, ঋণখেলাপি, মামলার তথ্য না দেওয়া, মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর স্বাক্ষর না দেওয়া, ১ শতাংশ সমর্থন তালিকার সঠিকতা না থাকা।
ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলামের। প্রার্থী হতে এ আসনের ১ শতাংশ ভোটারের বা ৪ হাজার ৮৮ জনের সই নিয়ে সমর্থন তালিকা জমা দিয়েছিলেন তিনি।
এরমধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জনকে বাছাই করে সঠিকতা যাচাই করেন রিটার্নিং অফিসার।
শনিবার বাছাইয়ে বাদ শেখ রবিউলের বাদ পড়ার কারণ তুলে ধরে রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, পাঁচজনের স্বাক্ষর-ঠিকানা ঠিক রয়েছে; দুজনের ঠিকানা ও সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা স্বাক্ষর করার কথা অস্বীকার করেছেন।
“একজন ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে দেখা যায়, তা অন্য ব্যক্তির। স্বাক্ষর করেছের রেশমা, আমরা ভোটার তালিকায় সার্চ দিলে দেখতে পাই এ ভোটার গীতা রানী রাজবংশী। তার মানে এ ভোটারটা ভুল। আর সই অস্বীকার করেছেন ইমরান হোসেন নামে একজন ভোটার।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান প্রতিপালিত না হওয়ায় রবিউল ইসলামের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করার কথা বলেছেনন রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী।
এই আদেশের সার্টিফাইড কপি মনোনয়নপ্রত্যাশীকে সরবরাহ করা হবে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এলাকার ভোটার নন, এমন ব্যক্তির সই রয়েছে প্রমাণ হওয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে এ মনোনয়নপত্র।
এ বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, “মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়। যাচাইকৃতদের মধ্যে আটজনই স্বাক্ষরের বিষয়টি বলেছে; একজনকে ফোনে পাওয়া যায়নি, আরেকজন বলেছেন তিনি এই এলাকার ভোটার না।
“আমার আপিল করার সুযোগ আছে, আমি আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি নির্বাচন কমিশন।”

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি
কুমিল্লা-৫ আসনে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়নপত্র শুক্রবার বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। শনিবার ঢাকা-১৫ আসনে বাদ পড়েন সিপিবির আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল।
দলীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমার সময় দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এর সই করা প্রত্যয়নপত্র জমার বিধান রয়েছে।
দলীয় প্রত্যয়ন ‘সঠিক না হওয়ায়’ মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বাতিল করার বিষয়টি তুলে ধরে রিটার্নিং অফিসার বলেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রত্যয়নে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতনের স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা সিপিবির কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
এবার নির্বাচনে সিপিবির ৬৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জানতে চাইলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের জটিলতার কারণে আমাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছে অধিকাংশ প্রার্থী। এ পর্যন্ত ২০ জনের মনোনয়নপত্র বাদের খবর পেয়েছি। সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনের সই করা প্রত্যয়ন দেওয়ার পর আমার নিজের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে, আবার একই রকম প্রত্যয়ন দিয়ে নরসিংদী-৪ এ আমাদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে।”
তিনি বলেন, পার্টির কংগ্রেসে মোহাম্মদ শাহ আলম ও রুহিন হোসেন প্রিন্স নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গেল বছর সেপ্টেম্বরে। এ সংক্রান্ত কংগ্রেসের তথ্য নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়। কিন্তু আরও কয়েকটি তথ্য চেয়েছিল ইসি; তা যথাসময়ে না নেওয়ায় বর্তমান কমিশন আর আপডেট হয়নি। ইসির গাফলাতির কারণে দলটির অনেক নেতাকর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের আবার আপিল করতে হবে।
সিপিবি নেতা রতন বলেন, “আজ আমরা নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রোববারও আছে, যেসব মনোনয়নপত্র স্থগিত আছে, হয়ত আগামীকাল বৈধ হবে। যাদের বাতিল হয়েছে, আশা করি নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর প্রার্থিতা ফিরে পাব আমরা।”
রংপুর-৩ আসনে শুক্রবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচন কমিশনে লাঙ্গল প্রতীকে দলটির নিবন্ধন রয়েছে।

আর চট্টগ্রাম-৫ আসনে শনিবার জাতীয় পার্টির আরেক অংশ আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে।
রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সাথে দলীয় যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানকার স্বাক্ষরের সাথে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গড়মিল রয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।”
স্বাক্ষর গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মহাসচিবের যে স্বাক্ষরের নমুনা দেওয়া হয়েছে সেখানে জি এম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীর স্বাক্ষর আছে। কিন্তু আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর রুহুল আমিন হাওলাদারের।”
আরও নানা গরমিলে বাদ মনোনয়নপত্র
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল করা হয় শুক্রবার।
রিটানিং অফিসার ও কক্সবাজারের ডিসি মো. আঃ মান্নান বলেছেন, মামলা সংক্রান্ত তথ্যের গরমিলে মনোনয়নপত্রটি বাতিল হয়।
বাতিলের বিষয়ে স্পষ্টভাবে সার্টিফাইড কপিতে বলা হবে।
এ জামায়াত নেতার আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, “যে মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেটি স্বৈরশাসকের আমলের মামলা। মামলার রায় অনুসারে তিন মাসের কারাভোগও করেন। এমনকি উচ্চ আদালতে এই মামলার আপিলও চলছে।”
ঢাকা-১৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর না করার কারণে।

মনোনয়নপত্র বৈধ ও বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বলেছেন, প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর রয়েছে; কিন্তু প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর নেই-এজন্য বাতিল হয়েছে মনোনয়নপত্র। আবার হলফনামায় ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর রয়েছে কিন্তু প্রার্থীর কোনো স্বাক্ষর নেই; তার মানে নিজে উপস্থিত না থেকে হলফনামায় স্বাক্ষর করেছেন।
ঢাকা-২ আসনে ঋণ খেলাপের অভিযোগে শনিবার জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, “আপনি অফিশিয়ালি ঋণ খেলাপী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ঋণ খেলাপী। আপনার মনোনয়পত্র এই মুহূর্তে গ্রহণ করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে আপনার আপিল করার সুযোগ আছে।”
এদিন ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মাহাবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং অফিসার সাইফুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য গোপন করায় বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকায় কত মনোনয়নপত্র বাতিল
শনিবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৩টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্রের বাছাই শেষে ১১৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং একটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি।
স্থগিত রাখা মনোনয়নপত্রটি ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফুল হকের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)। তিনি একটি সম্পূরক হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন। আবেদন বিবেচনায় তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের কারণ সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনসংক্রান্ত ত্রুটি, ঋণখেলাপি থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতি, কাগজপত্রের অসংগতি, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যা এবং যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকার কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।”
ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনে ছয়জন করে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। আর বাতিল হয়েছে যথাক্রমে পাঁচ ও তিনজনের মনোনয়নপত্র। মহানগরের আরও দুটি আসনের বাছাই নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আর ঢাকা-১৫ আসনেও ছয় জনের মধ্যেপত্র বৈধ করা হয়েছে, বাকি ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা জেলার বাকি পাঁচটি আসনের রিটার্নিং অফিসার ডিসি মো. রেজাউল করিম বলেছেন, মোট ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার সহ আরেকজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এক নজরে ঢাকার ২০ আসন
|
আসন |
মনোনয়নপত্র জমার সংখ্যা |
বৈধ |
বাতিল |
|
ঢাকা-১ |
৮ |
৫ |
২, ১ জন প্রত্যাহার |
|
ঢাকা-২ |
৩ |
২ |
১ |
|
ঢাকা-৩ |
১৬ |
৮ |
৮ |
|
ঢাকা-৪ |
৮ |
৬ |
২ |
|
ঢাকা-৫ |
১৬ |
১৪ |
২ |
|
ঢাকা-৬ |
৭ |
৫ |
২ |
|
ঢাকা-৭ |
১৫ |
১০ |
৫ |
|
ঢাকা-৮ |
১২ |
৮ |
৪ |
|
ঢাকা-৯ |
১৪ |
১১ |
৩ |
|
ঢাকা-১০ |
১৩ |
৯ |
৪ |
|
ঢাকা-১১ |
১১ |
৯ |
২ |
|
ঢাকা-১২ |
১৮ |
১১ |
৭ |
|
ঢাকা-১৩ |
১১ |
৬ |
৫ |
|
ঢাকা-১৪ |
১৩ |
৯ |
৪ |
|
ঢাকা-১৫ |
৯ |
৬ |
৩ |
|
ঢাকা-১৬ |
১৩ |
১০ |
৩ |
|
ঢাকা-১৭ |
১৭ |
১০ |
৭ |
|
ঢাকা-১৮ |
১৭ |
৭ |
৯, স্থগিত ১ |
|
ঢাকা-১৯ |
১১ |
৯ |
২ |
|
ঢাকা-২০ |
৬ |
৬ |
৬ |
|
মোট |
২৩৮ |
|
৮২, অন্যান্য ২ |
আপিল যেভাবে
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। যারা আপিল করবেন তাদের বিষয়ে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবো আমরা।”
সিপিবি ও জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে আপিল আবেদন আসার পর এ বিষয়টিও নিষ্পত্তি হবে বলেছেন তিনি।
• মনোনয়নপত্র বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬
• রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ: ৫-৯ জানুয়ারি ২০২৬
• কমিশনে দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি: ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
• প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
• ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা