Published : 30 Aug 2025, 10:41 PM
টাকার আদলে ছাপানো হয়েছে লিফলেট; টাকার অঙ্কের জায়গায় ব্যালট নম্বর; আর প্রার্থীর পরিচয় দিয়ে তাতে লেখা, ‘চাহিবামাত্র এ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বাধিত করবেন’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রচারে এমন অভিনব লিফলেট বিলি করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সদস্য প্রার্থী মো. আরাফাত হোসেন। ব্যালট নম্বর পরিচয় করতে তিনি নোটের মান নির্ধারণ করেছেন ১৭০।
নোটের আদলে তৈরি লিফলেটের ওপরে বাংলাদেশ ব্যাংকের জায়গায় লেখা হয়েছে, ‘ডাকসু ভোট ব্যাংক’। আর গভর্নরের নামের জায়গায় মো. আরাফাত হোসেন লিখেছেন নিজের নাম।
ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘চাহিবামাত্র ইহার প্রার্থীকে একশত সত্তর ব্যালটে ভোট দিয়ে বাধিত করিবেন’।
সাদা-কালো এ নোটের এক পিঠে আছে কিউআর কোড, যা স্ক্যান করলেই ভোটাররা দেখতে পাবেন প্রার্থীর ইশতেহার।
ডাকসুতে সদস্য পদের এ স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। থাকেন মাস্টার দা সূর্যসেন হলে।

প্রচারে এমন পন্থা বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আরাফাত বলেন, মূলত ভিন্নতা আনতে তিনি এমনটা করেছেন।
“আমি দেখছি, সবাই একই কাজ করছেন। তাই, শিক্ষার্থীরা এতজন প্রার্থীর মধ্যে সবাইকে মনে রাখবেন না। আর ভোটের দিন যেহেতু প্রার্থীর নাম থাকবে না, সেখানে সবার ব্যালট নম্বর মনে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাই শিক্ষার্থীদের কাছে আমার ব্যালট নম্বরটা যেন মনে থাকে, তাই এমন একটা পন্থা বেছে নিয়েছি।”
ধারণাটা কোথা থেকে এল, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা আসলে ছোট বেলা থেকে দেখতাম যে, ঈদ এলে ছোট ছেলে-মেয়েরা নতুন টাকা সংরক্ষণ করে। এবারের ডাকসু নির্বাচনটা বেশ ‘ইউনিক’, তাই আমিও চাইছিলাম ‘ইউনিক’ কিছু করতে।
“আর টাকার মধ্যে যে একটা লাইন থাকে— চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে, সেই লাইনটা আমাকে মুগ্ধ করছে। তাই সেই লাইনের মত ‘চাহিবামাত্র এ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বাধিত করবেন’ যুক্ত করে প্রচারে নামলাম।”
ভিন্ন ধরনের এ লিফলেটে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা বলছেন আরাফাত। এমনকি শিক্ষকরাও লিফলেট চেয়ে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরাফাত বলেন, “আমি প্রথমে দুই হাজার লিফলেট ছাপিয়েছিলাম। সেগুলো খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। এমনকি আমার হলের প্রভোস্ট স্যারসহ অনেকে এ লিফলেট সংগ্রহ করেছেন। অনেকে নক দিয়ে বলেছে, ক্যাম্পাসে গেলে আমার কাছ থেকে সংগ্রহ করে নিবে। আমার মনে হয় না, কোনো প্রার্থীর সঙ্গে এমন হচ্ছে।”

আরাফাতের কাছ থেকে লিফলেট পাওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পল্লব আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবাই প্রচারে একই কাজ করছে।
“সেক্ষেত্রে আরাফাত ভাইয়ের প্রচার-প্রচারণা সবার থেকে আলাদা। টাকার মধ্যদিয়ে প্রচার চালানোটা ইউনিক করে তুলেছে। তিনি যদি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রপারলি পৌঁছাতে পারেন, তাহলে জিতে আসবেন, আশা করি।”
প্রচারের সময় আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এ প্রথম এরকম প্রচার দেখলাম। এটা তো অবশ্যই সংরক্ষণ করব। পাশাপাশি সবার মনে থাকবে যে ডাকসুতে কেউ টাকা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।”
এবার ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদের বিপরীতে লড়বে ৪৭১ জন। আর ১৩ সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ২১৭ জন। যাদের মধ্যে আরাফাত একজন।
নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী করতে চান, সেই প্রশ্নে আরাফাত বলেন, “আমি ‘সরলীকরণ’ নামে একটা প্ল্যাটফর্ম চালাই।
“সেক্ষেত্রে আমি জানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় প্রবলেম আছে। তাই আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রশাসনিক জটিলতা, তা নিরসনে কাজ করব।”