Published : 01 Apr 2026, 09:00 PM
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের ‘অসুস্থতার’ কথা তুলে ধরে তার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার।
বুধবার শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে মেহেত মামুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে বলা হয়, “আমার আব্বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি লড়াই করতে গিয়ে পরিবারের অর্থাভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আইনি খরচ মেটাতে গিয়ে তার চিকিৎসা খরচ কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি এখন মৃত্যুর দিন গুনছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে তা আমাদের চোখের সামনে হওয়ায় আমারও বিমর্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
“আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যে কোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশুমুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন। নয়ত আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!”
চিঠির একটি কপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সরকার ‘উৎখাতের ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে যে মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী গ্রেপ্তার হন, সে মামলায় শওকত মাহমুদকে গত ৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
পরে গত ১৬ মার্চ শওকত মাহমুদকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করে ডিবি পুলিশ। শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৩০ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় ঢাকার একটি আদালত।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনে মেহেত মামুন বলেন, “আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাটিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রধান নেতা আপনার শ্রদ্ধেয় পিতা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করেছেন। সেভাবেই দলের অনুগত হিসেবে সাংবাদিক পেশার মানুষদের সুসংগঠিত করেছেন।
“এর জন্য তাকে কম নিগৃহের শিকার হতে হয়নি! আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ৭০টি মামলায় দীর্ঘ দেড়বছর কারাবাস করেন। তবে আপনার ও আপনার মার থেকে পাওয়া দীক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে কখনো আপস করেননি।
“আমার পিতা গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এ একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। তাকে এক কাপড়ে গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা তুলে নিয়ে একটি মামলায় যুক্ত করেন, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই বলে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বারবার বলে আসছেন।
“তার চলমান কারাবাস সময়ে যতবার দূর থেকে কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাতে তিনি তার কষ্টের জীবনের বাইরেও আপনার (প্রধানমন্ত্রী) খোঁজ নিয়েছেন।”
আওয়ামী লীগ আমলেও ‘আপস না করার কারণে’ পরিবারকে নানা আর্থিক দুর্দশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দাবি করেছেন মেহেত মামুন।
শওকত মাহমুদ হৃদরোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে চিঠিতে তুলে ধরেছেন তিনি।