২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘পুশ ইনকে পায়ে পাড়া দিয়ে’ বিবাদের চেষ্টা মনে হচ্ছে: রিজভী

“বাংলাদেশ কি একটা ইয়ে হয়ে গেছে, বর্জ্য ফেলার একটা জায়গা,” বলেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।

‘পুশ ইনকে পায়ে পাড়া দিয়ে’ বিবাদের চেষ্টা মনে হচ্ছে: রিজভী
নয়া পল্টনে বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2025, 05:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:10 PM

সীমান্ত দিয়ে মানুষকে ‘পুশ ইন’ বা ঠেলে দেওয়ার ঘটনাকে ‘পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘‘কী কারণে জানি না, পাশের দেশ এক ধরনের ক্ষোভ ও বেদনায় বাংলাদেশের প্রতি ভয়ংকর বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে উঠছে। 

“এর কারণ কী, আমরা জানি না। হাসিনা ক্ষমতায় নেই— এ কারণেই কি তারা বেশি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে উঠছেন?”

তিনি বলেন, “প্রতিদিন পুশ ইন হচ্ছে। হয় ঠাকুরগাঁও সীমান্ত, নাহয় মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম বা সাতক্ষীরার সীমান্ত; ২০ জন, ৩০জন, ৪০ জন, ৫০ জন করে পুশ ইন চলছে। 

“এটা তো মনে হচ্ছে, কেন জানি পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর একটা প্রচেষ্টা কিনা, সেই প্রশ্ন আজ সারা দেশের মানুষের মধ্যে; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও উঠেছে। হঠাৎ করেই এই পুশ ইনের হিড়িক।”

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “তাহলে আপনারা বিদেশি যাকেই পাবেন, তাকেই বাংলাদেশে পুশ ইন করাবেন? বাংলাদেশ কি একটা ইয়ে হয়ে গেছে, বর্জ্য ফেলার একটা জায়গা! তাদের ভাব-কথাবার্তার মধ্যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।”

রিজভী বলেন, “আমি পাশের দেশের ভাইদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

‘‘কিন্তু পায়ে পারা দিয়ে আপনারা যদি ঝগড়া করতে চান, আপনারা আপনাদের দেশের লোককে বিদেশি বানিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করতে চান, এর বিরুদ্ধে আমাদের যেমন প্রতিবাদও থাকবে, প্রতিরোধও থাকবে।”

ব্রিফিংয়ে দেশের কোভিড সংক্রমণ ও ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তার মতে, এ দুই রোগের বিস্তার ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি।

 ‘জেলা হাসপাতালগুলোতে করোনা-ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বলছি, জেলা শহরের হাসপাতালগুলো কোভিডের প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে পারছে না। অনেক কোভিড রোগীকে…বরিশাল বিভাগের কথা বলি, বরগুনা ও পটুয়াখালীর রোগীদের বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হচ্ছে।

“পটুয়াখালী ও বরগুনা তো জেলা শহর; সেখানে কেন সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে না? দুই-তিন বছর আগে করোনার যে ভয়াবহতা ছিল, এত মানুষ মারা গেল, তারপর তো আর সরকারের বসে থাকা উচিত ছিল না।”

রিজভী বলেন, “করোনার নতুন ধরনের যে আগ্রাসন শুরু হয়েছে, তা খুব ভালো লক্ষণ আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না।

“এক্ষেত্রে সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে খুব দ্রুত গতিতে করোনা মোকাবিলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের দিক থেকে করোনা মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো কথা শুনিনি। মানুষের যেকোনো দিক থেকে সুরক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। এটা সরকারকে পালন করতে হবে।”

ডেঙ্গুর বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘‘ডেঙ্গুও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বরিশাল বিভাগে তীব্র মাত্রায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।”