Published : 02 Aug 2025, 03:07 PM
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে; তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আগামী সাতদিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে তার অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবির আশা করছেন।
শনিবার ঢাকার বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের এই অস্ত্রোপচার হয়।
দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড হাসপাতালের চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “সকাল ৭টায় ডা. শফিকুর রহমানকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। তার ওপেন হার্ট সার্জারি ভালোভাবে হয়েছে।
"উনার সার্জারি খুব ভালো হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম উনাকে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্জারি করতে, সেটা পেরেছি। উনার ৩টা বাইপাস করার কথা ছিল। আমরা ৪টা বাইপাস করেছি যেন কোনোদিক থেকেই কোনো সমস্যা না হয়। কোনো জটিলতা ছাড়াই সার্জারি শেষ হয়েছে।"
ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল আছে’।
"আমরা আশা করছি উনাকে হয়তো ৩-৪ দিন আইসিইউতে থাকতে হতে পারে। আগামী সাতদিনের মধ্যে তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবেন।"
হাসপাতালের ওই সংবাদ সম্মেলনে ডা. শহিদ আলম চৌধুরী, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিচালানা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯ জুলাই দলের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান শফিকুর রহমান। পাশে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ফেলেন।
এর মিনিট খানেক বাদে জামায়াত আমির উঠে দাঁড়ান এবং আবার বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু আবারও পড়ে যান তিনি।
তবে কিছুক্ষণ পর না দাঁড়িয়ে মঞ্চে ডায়াসের পাশে পা মেলে বসে বক্তব্য দেন তিনি। এসময় তার পাশে চিকিৎসকদেরও দেখা যায়।
সমাবেশ শেষে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিন পরীক্ষা নিরীক্ষায় তেমন কিছু ধরা না পড়ায় পরদিন তিনি বাসায় ফিরে যান।
এর মধ্যে গত বুধবার আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সে সময় চিকিৎসকরা এনজিওপ্লাস্টি না করে বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দেন।