Published : 30 Dec 2024, 09:50 PM
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেড় থেকে আড়াই লাখ মানুষের জমায়েত হবে বলে প্রত্যাশা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেছেন, আগামীতে বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, এই ঘোষণাপত্র তাদের জন্য ‘দিকনির্দেশনা’ হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করেন।
“নতুন বছরের আনন্দ ও প্রক্লেমেশন ঘোষণার আনন্দ এই দুইটা দেশের মানুষ একসাথে এনজয় করবে। দেশের মানুষ এই দুটোকে একসাথে একেসেপ্ট করবে, যার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাসুদ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলছে, তাদের এই ‘জুলাই প্রোক্লেমেশন’ হবে ‘আগামীর বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র’। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে এর মাধ্যমে ‘নাৎসি বাহিনীর’ মত ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ঘোষণা করা হবে।
একইসঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী’ সংবিধান হিসেবে তুলে ধরে তার ‘কবর’ রচনা করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনের নেতারা।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় শহীদ মিনারে মূল কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও অন্যান্য অনুষ্ঠান চলবে সকাল থেকেই।
বছরের শেষ দিন এই কর্মসূচি ভোগান্তি তৈরি করবে কি না– এ প্রশ্নে হান্নান মাসুদ বলেন, “বছরের শেষ দিনে অতীতকে ভুলে গিয়ে নতুনভাবে গড়ে তোলার যে আনন্দ, সেটার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রক্লেমেশনটা জাতির জন্য বড় আনন্দ বয়ে আনবে, তাদেরকে নতুন স্বপ্ন দেখাবে।
“সেই জায়গায় দুটোকে আমরা একসাথে সম্মিলন করতে চাচ্ছি। নতুন বছরের আনন্দ ও প্রক্লেমেশন ঘোষণার আনন্দ এই দুইটা দেশের মানুষ একসাথে এনজয় করবে।”
তিনি বলেন, “দিনের বেলায় আমরা আমাদের প্রোগ্রামটা করব। সন্ধ্যার পর থার্টি ফাস্টের প্রোগ্রাম চলবে। এই দুইটার নিরাপত্তায় পুলিশ কী করে সমন্বয় করবে সেটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। সকাল থেকেই সেখানে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চ নাটক চলতে থাকবে। ৩টার দিকে আমাদের অনুষ্ঠানটা শুরু হবে।”
কেমন জনসমাগম হবে বলে আশা করছেন– এ প্রশ্নে হান্নান মাসুদ বলেন, “মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতেছে। কে, কোথা থেকে, কীভাবে আসতেছে তা কালকে মাঠেই দেখা যাবে। কত মানুষ আসবে সেটাতো এখন আমরা বলতে পারছি না। তবে যেভাবে আমাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে যেভাবে আমরা সাড়া পাচ্ছি তাতে আমরা আশা করি এটা দেড় থেকে আড়াই লাখ মানুষ হতে পারে।
“৩ অগাস্টের মত এক দফার এক্সটেন্ডেড ভার্সন শহীদ মিনারে হতে যাচ্ছে। আমরা তখন যে এক দফা দিয়েছি, এরপর ফ্যাসিস্টের পতন হয়েছে। পতনের পর আামরা নতুন প্রক্লেমেশন দিয়ে জাতির সামনে ডকুমেন্টেড করে তুলতে চাচ্ছি। ৩ অগাস্ট যারা এসেছিল, তারাই আগামীকালকে আসবেন।”
হান্নান মাসুদ বলেন, “২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে কেউ জীবন দিয়েছে, কারও সন্তান গেছে, কেউ হাত-পা দিয়েছে তাদের যে আকাঙ্ক্ষাটা সেটা ডকুমেন্টেড আকারে প্রকাশ করা হবে। এই ডকুমেন্টেশনটা আগামীতে বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক তাদের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। তাদেরকে (সরকারকে) আমরা একটা সীমারেখা দিয়ে দিতে চাচ্ছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের রক্তের বিনিময়ে, আহতদের অঙ্গের বিনিময়ে… আমরা একটা সীমারেখা দিয়ে যাচ্ছি।
“এই সীমারেখার বাইরে যাতে কেউ যেতে সাহস না করে। যেটা হচ্ছে ৭২ এর পর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে সকলেই সীমা অতিক্রম করেছে। মানুষের অধিকার হরণের সীমা যাতে কেউ অতিক্রম করতে না পারে।”
এই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কী বলছে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের বাইরে না। তারা এদেশের জনগণ, এদেশের মানুষ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে গণঅভ্যুত্থানটি হয়েছিল, সেখানে ছাত্র নেতৃত্বকে নেতা মেনে, এই নেতৃত্বকে স্বীকার করে নিয়ে তারা রাজপথে নেমেছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবেই সবাইকে গ্রহণ করতে চাচ্ছি। সাধারণ মানুষ কী চাচ্ছে সেটাই রাজনৈতিক দলগুলোও চায় বলে আমরা মনে করি।
“সাধারণ মানুষ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণ, বস্তাপচা রাজনীতির অবসান চায়। আগের বস্তাপচা রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে নতুন রাজনীতির উদ্ভব হবে। সেই রাজনীতি কীসের ওপর ভিত্তি করে হবে সেটা আমরা কালকে ডকুমেন্ট আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছি।”
ডিএমপির সঙ্গে কী আলোচনা হল জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, “আগামীকালকের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। কোথায় মঞ্চ হবে, সাংবাদিকদের বসার জায়গা কোথায় হবে, কোন পাশে কারা থাকবে, আমাদের ভলান্টিয়াররা কীভাবে প্রশাসনকে সাহায্য করবে, সকলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে আমরা এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।
“আমরা ফরমালি ডিএমপি কমিশনারকে আগামীকালের প্রোগ্রামের বিষয়ে জানাতে এসেছি। সে জায়গায় তারা পাঁচ সদস্যের একটি টিম করে দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন যুগ্ম কমিশনার অপারেশন্স।”
কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বলেন, “আমাদের গাড়িগুলো কোথায় থাকবে, যাতে এই কর্মসূচিকেন্দ্রীক ঢাকার মানুষের যাতায়াতে কষ্ট না হয়, সেসব দিক বিবেচনায় আমরা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের প্রোগ্রামকেন্দ্রিক তারা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পাঁচশ সদস্যকে মোতায়েন করবেন। আমরা বলেছি আমরা চেষ্টা করব সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ওই মাঠটা খালি করে দেওয়ার জন্য। সাড়ে ৫টার মধ্যে আমরা আমাদের প্রোগ্রাম শেষ করব।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের অফিসিয়ালি অনুমোদন দেওয়া হযেছে। আমাদের অফিসারদের পাঁচ সদস্যের একটি টিম পুরো বিষয়টা দেখভাল করবেন।”
যানবাহন পার্কিং নির্দেশনা
সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আসা যানবাহনগুলো কোথায় পার্ক করা হবে সে নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপির।
গাবতলী হয়ে ঢাকায় ঢোকা যানবাহনগুলো মানিক মিয়া এভিনিউ ও আগারগাঁও এলাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে পার্কিং করবে।
সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে আসা যানবাহনসমূহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় পার্কিং করবে।
আর আব্দুল্লাহপুর (উত্তরা) হয়ে ঢোকা যানবাহনগুলো ৩০০ ফিট এলাকায় পার্কিং করবে।