Published : 25 Aug 2025, 06:30 PM
নির্বাচনের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদারের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তা খণ্ডিত বলে তার ভাষ্য।
তিনি বলছেন, পিআর পদ্ধতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিকই আছে, সে কথাই তিনি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বক্তব্যের নেতিবাচক অংশটির নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রচার চালানো হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুদিন আগে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বদিউল আলম মজুমদারকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা বুঝেছেন পিয়ার পদ্ধতি? পিয়ার পদ্ধতি হইলে, আসন ভিত্তিক হইলে যে রকম, ওই যে ওয়াইল্ড সুইং। আপনি, আনকন্ট্রোলেবল, ওই যে ভোটের হার এক হলেও, কিন্তু আসনের হার অনেক ইয়ে হইতে পারে। অনেক ভিন্নতা আসতে পারে।
“কিন্তু আপনি যদি পিয়ার পদ্ধতিতে হয়, তাহলে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না। তাহলে কি হইত? অস্থিতিশীলতা। হ্যাং পার্লামেন্ট। সকালবেলা একজন প্রধানমন্ত্রী, বিকেলবেলা আরেকজন প্রধানমন্ত্রী।”
অতীতে বিভিন্ন দেশে পিআর পদ্ধতি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটা অস্থিতিশীল সরকার। আর শুধু তাই নয়, পিয়ার পদ্ধতি অনেক দেশেই সমস্যার মধ্যে আছে। একটা হলো নেপালে। পিয়ার পদ্ধতি ইজ নট ওয়ার্কিং ওয়েল। আরেকটা হল, সবচেয়ে ভয়াবহ হল, যদিও এই দেশের নাম, নাম নিলেও মুখ পরিষ্কার করতে হয় পরে, ইসরায়েল।
“ইসরায়েলিদের যে গাজা যুদ্ধ অব্যাহত আছে, এইরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলছে, এটা পিয়ার পদ্ধতির কারণে। কারণ নেতানিয়াহু, সে জিম্মি হয়ে গিয়েছে ছোট ছোট ধর্মীয় দলের কাছে। ওই যে তারাই এখন ওই যে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধ করতে দিচ্ছে না। মানে বড় দলগুলো ছোট দলের কাছে জিম্মি হয়ে যেতে পারে। ওটা হলো নেতিবাচক দিক।”
ওই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েকটি সংবামাধ্যম প্রতিবেদনও প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, বদিউল আলম মজুমদার পিআর পদ্ধতিকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন।
তার ওই বক্তব্যের ফটোকার্ড ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, বিএনপির মিডিয়া সেলও সেরকম একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছে।
এই বিতর্ক নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই ভিডিওর তো কোনোরকম তথ্যসূত্র নাই। সবচেয়ে ভয়ানক কথা হল—এটা খণ্ডিত৷”
তিনি বলেন, “আমি যেটা বলেছি, সেটা হল পিআর পদ্ধতির অনেকগুলো ইতিবাচক দিক আছে। আসনভিত্তিক পদ্ধতিরও অনেকগুলো ইতিবাচক দিক আছে। আবার দুই পদ্ধতিরই কতগুলো নেতিবাচক দিক আছে। অর্থাৎ, দুই পদ্ধতিরই ভালো দিক আছে, খারাপ দিক আছে। কোনোটাই উৎকৃষ্ট নয়, সর্বশ্রেষ্ঠ নয়।
“এজন্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসন নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করেছি। আর নিম্নকক্ষ আমাদের যে গতানুগতিক আসনভিত্তিক পদ্ধতি, এটাই আমরা প্রস্তাব করেছি। দুটোরই ভালো দিক খারাপ দিক আছে, এই বিবেচনা করেই আমরা দুটোই প্রস্তাব করেছি।”
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা বা ‘প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেনটেশন’ পদ্ধতিতে আসনভিত্তিক কোনো প্রার্থী থাকে না। ভোটাররা ভোট দেবেন দলীয় প্রতীকে। একটি দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সে অনুপাতে সংসদে তাদের আসন সংখ্যা নির্ধারণ হবে।
বিভিন্ন সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানের পক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১০০ আসনে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনে ঐক্যমত্য কমিশনের প্রস্তাবে একমত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও।
তবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো বরাবরই এই পদ্ধতির বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
গেল ৩১ জুলাই সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ১০০ আসনের জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবের কথা জানায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
কমিশন বলেছিল, উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০। নিম্নকক্ষের ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিটি দলের যে ভোট পাবে সে অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্যরা মনোনীত হবেন।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের নিজস্ব কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না।
তবে, অর্থবিল ব্যতীত অন্য সব বিল নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ উভয় কক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না। এক মাসের বেশি বিল আটকে রাখলে, সেটিকে উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে গণ্য করা হবে।
নিম্নকক্ষের প্রস্তাবিত বিলগুলো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করবে উচ্চকক্ষ এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তা অনুমোদন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন করে, তবে উভয় কক্ষে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে।
আর যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। নিম্নকক্ষ সেই সংশোধনগুলো আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।