Published : 04 Jan 2026, 09:48 PM
বিএনপির নেতাকর্মীদের কখনো নিজেদের পরিচয় ‘গোপন রাখার কৌশল’ নিতে হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নজরুল ইসলাম খান।
দলটির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেছেন, “আমরা উন্মুক্ত থাকতে চাই। আমাদের কথা বা কাজে গোপন কিছু রাখতে চাই না। আমরা মনে করি, জনগণ সব কিছু জেনেবুঝে যদি ভালো মনে করে, তাহলে আমাদের পছন্দ করবে, আমাদের সমর্থন দেবে।
‘‘আর সেইভাবে যদি আমরা বিজয়ী হই, তাহলে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারব। আমাদের এই সৎ সাহস আছে যে, আমাদের কোনো কৌশল করার প্রয়োজন হবে না। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কখনো এমন কৌশল নেয়নি, যেখানে তার মর্যাদা, তার পরিচয় গোপন রাখতে হয়েছে; এখনও হবে না ইনশাল্লাহ।”
রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকের পরে এক সংবাদ ব্র্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিতে পারে নাই, পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারে নাই। আমরা আশা করছি, এবার জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে পারবে এবং তাদের পছন্দের একটি সরকার, যারা তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করবে, সেই সরকার গঠন হবে।
“কাজেই এই নির্বাচনটা যেন অবাধ ও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সত্যি সত্যিই যেন আমাদের জনগণ তাদের মত প্রকাশ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের কাজ…আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের দল এই কাজটি করছে।”
নির্বাচন পরিচালানা কমিট সেই লক্ষ্যে কাজ করবে জানিয়ে গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য রেখেছেন, আপনারা শুনেছেন সকলে। বার বার তিনি শান্তির কথা বলেছেন, বার বার তিনি সমঝোতার কথা বলেছেন। কাজেই আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করছি।”
গত ২ জানুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান এবং রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। রোববার কমিটি প্রথম বৈঠক করল।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের না থাকার প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, “একসময় বহু রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে নাই, তখন বলা হয়েছে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। আমি সেটা বলতে চাই না। তবে কিছু রাজনৈতিক দল তো আছে, যাদের প্রতি জনগণের ক্ষোভ ও ক্রোধ আছে, দেশের প্রচলিত আইনে কিছু রাজনৈতিক দলের তৎপরতা বন্ধ আছে, নিষিদ্ধ আছে। কাজেই তাদের তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আইনি সুযোগ নাই।
‘‘সেরকম না করার থাকলে নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক হওয়ার পথে বাধা বা বাতিল বলে মনে করা যায় না। এর বাইরে যেসব দল, যদি তারা নির্বাচন করতে না চায়, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। আমরা মনে করি যেটা, সেটা হলো যে, এই মুহূর্তে অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে আয়োজন হয়েছে, সেখানে যাদের রাজনৈতিক তৎপরতার উপর কোনো বিধিনিষেধ নাই, তাদের কারোরই নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নাই। এখন এটা তাদের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। যদি বাধা হতো, তাহলে আমরা বলতে পারতাম যে নির্বাচনে কিছু দলকে বাইরে রেখে করার চেষ্টা চলছে। বাধা না থাকার কারণে এই কথাটা আমরা বলতে পারছি না।”
বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটি বিশেষ দল ভোটারদের আইডি কার্ড সংগ্রহ করছে মন্তব্য করে এক সাংবাদিক এই বিষয়ে নজরুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া জানতে চান।
জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ঘরে ঘরে গিয়ে কোনো দলের প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করাটা দোষের ব্যাপার না। কিন্তু আপনি যেটা বললেন যে তাদের ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেখানে দুশ্চিন্তার কারণ থাকতে পারে… সেটা প্রয়োজনটা কী; উদ্দেশ্যটা কী?“
ব্রিফিংয়ে কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ ও মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।