Published : 05 Apr 2026, 11:44 PM
নবনির্বাচিত সংসদে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনা হলেও মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট নিয়ে কথা হচ্ছে না আক্ষেপ করে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, তারা আগেই বলেছেন জুলাই সনদ ও গণভোটের যে কোনো ‘আইনি ভিত্তি’ নেই।
জুলাই সনদ ও গণভোট ইত্যাদি নিয়ে সংসদে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলেও দাবি সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
রোববার সকালে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নবনির্বাচিত সংসদে মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট নিয়ে কথা হচ্ছে না। কথা হচ্ছে, জুলাই, গণভোট ইত্যাদি নিয়ে।
“আমরা আগেই বলেছি জুলাই সনদ ও গণভোটের কোন আইনি ভিত্তি নাই। মৌলিক বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোট হয়। এই সংসদের মাধ্যমে যা সংস্কার করতে চান, তা করা যাবে।”
আনিসুল ইসলাম বলেন, “তেলের দাম নিয়ে কথা বলা উচিত। আমরা বর্তমান সরকারকে সময় দিতে চাই। তার সাথে যোগ হয়েছে বিশ্বের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। আমরা এই সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চাই।”
জাতীয় পার্টির দলীয় প্রতীক ‘লাঙল’ বিষয়ে দলের একাংশের চেয়ারম্যান বলেন, “কিছুদিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে লড়বো। আশা করি ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রতীক আমরা পাব ইনশাল্লাহ।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সুযোগে গেল ৯ অগাস্ট ‘ঐক্য সম্মেলন’ করে আলাদা হয়ে যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। রওশনের অংশ থেকে বেরিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
গত ৮ ডিসেম্বর আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি-জেপির নেতৃত্বে ২০ দলের সমন্বয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এ জোটের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
গুলশানের ইমানুয়েলস পার্টি সেন্টারে জাতীয় পার্টির একাংশ ও এনডিএফের ঈদ পুনর্মিলনী এবং আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
তিনি বলেন, “ক্ষমতায় গেলে অনেকেই অতীত ভুলে যায়। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। সরকার প্রধান হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণভাবে জীবনযাপন করছেন। কোন দম্ভ অহংকার তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। যেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। একইসঙ্গে সরকারের দেড় মাসের প্রায় সব কাজই অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাপার একাংশের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টি-জেপি মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, জনতা পার্টি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এনডিএফের প্রধান সমন্বয়কারী গোলাম সরোয়ার মিলন।