Published : 04 May 2026, 04:06 PM
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ তিন জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।
দুদকের পৃথক তিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ সোমবার এ আদেশ দেন।
অপর দুজন হলেন-কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের সাবেক সহকারী কমিশনার ভূইয়া মফিজুর রহমান এবং ঢাকার দোহার থানার সাবেক ওসি মোস্তফা কামালের স্ত্রী খন্দকার শামীমা হাসান।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, মায়াসহ তিনজনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ চেয়ে এদিন আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম।
মায়ার আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে ‘ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানিলন্ডারিংয়ের’ অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত এক কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৬১ টাকার ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখল’ করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে দুদক।
এছাড়া মায়ার নিজের ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোর মাধ্যমে ৫১০ কোটি ৩৭ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৫ টাকার ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে দুদকের মামলায়।
আবেদনের বলা হয়েছে, “মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া একজন আয়কর দাতা। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত্রের স্বার্থে তার মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।”
মফিজুর রহমানের আবেদন বলা হয়, তার বিরুদ্ধে ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে দুদকের হাতে।
তিনি গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য’ দিয়েছেন এবং ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ’ এক কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ভোগ দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
ওসি মোস্তফা কামালের স্ত্রী শামীমার আবেদন বলা হয়, তিনি স্বামীর ক্ষমতার ‘অপব্যবহার’ করে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ’ এক কোটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ।
মামলার তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করার আদেশ চাওয়া হয় আবেদনে।