Published : 04 Mar 2026, 10:04 PM
ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের পর সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অ্যাকাউন্টে পৌনে ১০ লাখের বেশি কিছু টাকা থাকার তথ্য দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, তার ‘চরিত্রহননের’ উদ্দেশে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
কারণ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের নির্বাচনে দলের তরফে তার নাম আসার পর থেকে তার বিরুদ্ধে নতুন প্রোপাগান্ডা শুরুর অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেও ছাত্র উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়কদের চরিত্রহননের চেষ্টা চলে আসছে বলে অভিযোগ তার।
বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলা মোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, তার একটি অ্যাকাউন্টে আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা এবং আরেকটিতে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। আর তার শিক্ষক বাবার পাঁচ অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে ১১ ডিসেম্বর সরে দাঁড়ানো আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব মঙ্গলবার তলব করে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এক অভিযোগের ভিত্তিতে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি খুবই অবাক হলাম যে ৫৬ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং যে মেসেজটি ব্যাংকগুলোতে দেওয়া হয়েছে তথ্য চেয়ে, সেই মেসেজেই লেখা আছে যে এটা গোপনীয় এবং গোপনীয়ভাবে বিএফআইইউর কাছে পাঠাতে হবে।
“কিন্তু বিএফআইইউর যে অফিশিয়াল সাংবাদিকদের গ্রুপ, সেখানে তারা সেই গোপনীয় তথ্যটা তারাই পাবলিক করলেন। আমি মনে করি একজন নাগরিক হিসেবে এটা একজন নাগরিকের প্রাইভেসি নষ্ট করা।”
তার অভিযোগ, “আলাদাভাবে ৫৫ জনেরটা না দিয়ে আমারটা আলাদাভাবে সাংবাদিকদের গ্রুপে দিয়ে প্রচার করতে বলাটা আপনাদের যে হীন উদ্দেশ্য, সেটাকেই প্রকাশ করে। সুতরাং শুধু অনুসন্ধানের বাইরেও আপনাদের এক ধরনের চরিত্রহননের যে উদ্দেশ্য আছে সেটা স্পষ্ট হয়।”
তবে সাংবাদিকদের নিয়ে বিএফআইইউ এর এমন কোনো ‘অফিশিয়াল’ কিংবা অন্য কোনো গ্রুপ নেই বলে জানাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংক বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ পদত্যাগের সময় তার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার কথা বলেন। পরে পুরো পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
আবার তা প্রকাশ করার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “যেহেতু আবার এগুলো নিয়ে কথা উঠল এবং জলঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করলাম যে আমার ব্যাংক হিসাব এবং আমার ও পরিবারের সকলের ব্যাংক হিসাব জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন। যাতে করে এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে।”
বাবা বিল্লাল হোসেনের পাঁচটি অ্যাকাউন্ট আছে তুলে ধরে আসিফ বলেন, “আমার বাবার ৫টি অ্যাকাউন্ট আছে। এর মধ্যে স্যালারি অ্যাকাউন্ট, অ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট, সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে ৫টি অ্যাকাউন্ট মিলে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে যেহেতু শিক্ষক, তিনি ১০ লাখ টাকার একটা সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন যেটা প্রতি মাসে ওনার স্যালারি থেকে কেটে নেওয়া হয়।
“সার্ভিস লোন এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দেওয়া হয় তাহলে তিনি এখনো ৮৩ হাজার ৩৫ টাকার মত দেনায় আছেন আরকি। আর আমার মায়ের একটাই অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। আমার স্ত্রীর একটা অ্যাকাউন্ট আছে সেখানে ৬১৩ টাকা আছে।”
নিজের দুইটি অ্যাকাউন্ট থাকার তথ্য দিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, “দুইটার মধ্যে একটা আমার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট সেটা হচ্ছে সোনালী ব্যাংকে, সেটাতে এটা আমার সেভিংস অ্যাকাউন্ট, এটাতে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে।
“আরেকটা হচ্ছে স্যালারি অ্যাকাউন্ট, যেটায় সরকারে থাকা অবস্থায় স্যালারিসহ গভর্নমেন্টের আরও যে টিএ-ডিএসহ যে এলাউন্সগুলো আসত, সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হত। আর এই অ্যাকাউন্টের একটু ডিটেইলস বলি- ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। ১৬ মাসের স্যালারি ১ লাখ ৬২ হাজার করে গড়ে, স্যালারি এবং ভাতাসহ এর আশেপাশে কম-বেশি করে ছিল। এবং পাঁচটি বিদেশ সফরে গিয়েছিলাম। বিদেশ সফরের যে টিএ-ডিএ বিল সরকারের পক্ষ থেকে দেয় আপনারা জানেন, সেটাও এই অ্যাকাউন্টে এসেছে সেটা গড়ে ৪-৫ লাখ বা ৬-৭ লাখ টাকা করে হবে পাঁচটি বিদেশ সফরের। এর বাইরেও সরকার থেকে আরও বিভিন্নখাতে যে ভাতা সব মিলিয়ে, আগেই ৫০ হাজার টাকার মত ছিল; এ অ্যাকাউন্টে এখন আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা। আর এই অ্যাকাউন্টের মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা।”
তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হচ্ছে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
“একটা নিউজ দেখলাম যে কিছুদিন আগে ১০ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির, প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। মানে এত অকল্পনীয় এবং অবাস্তব অভিযোগ দিয়ে জাস্ট ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন করা হয় এবং যাদের কাছে কোনো ধরনের প্রমাণ নেই, কোনো ধরনের লিড নেই।“