Published : 15 Aug 2025, 03:27 PM
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৫০তম বার্ষিকীতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে তার বাড়ির সামনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন কয়েকজন।
তাদের মধ্যে শুক্রবার সকালে ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা এক রিকশাচালকও রয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের স্লোগান দেওয়া লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।
পুলিশ বলছে, তারা সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘প্রেস সচিবের নির্দেশনা’ মোতাবেক কাজ করছেন।

১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে ব্যপক নিরাপত্তার আয়োজন করে পুলিশ। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দুই প্রবেশমুখে যানবাহন আটকে দিয়ে মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় সাঁজোয়া যান ও জলকামান।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে পারেন–এমন ধারণা থেকে তাদের ঠেকাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই ৩২ নম্বরে অবস্থান নেয় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্যরা। দফায় দফায় তাদের মিছিলে রাতে সরগরম হয়ে ওঠে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কটি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই আওয়ামী লীগ সন্দেহে যাকে তাকে তল্লাশি করা হচ্ছিল। এর মধ্যে তিনজনকে মারধর করে পুলিশেও সোপর্দ করা হয়।
এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সন্দেহে ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অবশ্য তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অবস্থান ছিল। দুপুর পর্যন্ত সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা অন্তত তিনজনকে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন রিকশাচালক রয়েছেন।

বেলা ১১টার দিকে সেই রিকশাচালক রিকশা চালিয়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২ নম্বরে আসেন। ফুলের তোড়ার ওপর কাগজে লেখা ছিল ’১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস’।
তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে ৩২ নম্বরে জড়ো হওয়া বিএনপিকর্মীরা রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েন। একজন লাফ দিয়ে গিয়ে তার হাত থেকে ফুলের তোড়াটি কেড়ে নেন। চলে মারধর, ভাঙচুর করা হয় তার রিকশাটিও। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই রিকশাচালক।
আজিজুর রহমান নামের ওই রিকশাচালক পরে বলেন, তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে এসেছেন। চারশ টাকা দিয়ে ফুলের তোড়াটি কিনেছেন।

“আমার অনেক কষ্টের টাকা, আমি দুই বছর ঢাকা শহরে রিকশা চালাই। শুধু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি জন্যি এহানে আইছি।”
এর আগে আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে এক নারীকেও হেনস্তা করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
এছাড়া আরেক ব্যক্তিকে সেখানে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সকালে এক দম্পতি তাদের তিন সন্তানসহ এলে ‘আওয়ামী লীগ’ সন্দেহে তাদের হেনস্থা করে স্থানীয় বিএনপিকর্মীরা। পরে তাদের সরিয়ে নেয় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে সাদা পোশাকে ছিলেন ধানমণ্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। রুটিন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেটাই মোতায়েন করা হয়েছে। যেহেতু গতকাল বিপুল জনসমাগম ছিল, সেজন্য আমরা বাড়তি কিছু ফোর্স মোতায়েন করেছি। এর বাইরে সেরকম কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমাদের কাছে নেই।”

এরমধ্যে কয়েকজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওসি বলেন, “গতকাল বিভিন্ন সন্দেহে… কেউ মোবাইল টানা পার্টি, চুরি, ছিনতাইকারী অথবা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য–এমন সন্দেহে পাঁচজনকে আমাদের কাছে হ্যান্ডওভার করা হয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইবাছাই করছি। পরে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৩২ নম্বরে নাশকতার পরিকল্পনার কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই জানিয়ে ওসি বলেন, “সরকারিভাবে যেহেতু তাদের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে আমরা সেই নির্দেশনা ফলো করব।”
পুলিশ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেওয়া ‘নির্দেশনা’ অনুসরণ করছে দাবি করে ওসি বলেন, “আপনারা হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন, কিছুদিন আগে আমাদের যে প্রেস সচিব, তিনি কিছু ইন্সট্রাকশন্স দিয়েছিলেন। সেই ইন্সট্রাকশন্স মোতাবেক আমরা কাজ করব।”