Published : 04 Nov 2025, 04:34 PM
দুটি দল যা বলে অন্তর্বর্তী সরকার ‘তাই করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
সরকার ওই দুটি দলের ওপরে ‘ভর করে টিকে আছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে অখণ্ড ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছিলেন মির্জা আব্বাস।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা জীবনে মাথা তুলে কথা বলতে পারে নাই, তারা আজকে মাথা তুলে কথা বলে, চোখে চোখ রেখে কথা বলে। এই সাহস এই শক্তি কোথায় পেল?”
বিগত বিএনপি সরকারের এই সাবেক মন্ত্রী বলেন, “আজকের যে সরকার, তাদের কার্যক্রম দেখে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, তাদের নিজস্ব কোন শক্তি নাই। এই সরকার দুটি দলের উপরে অর্থাৎ একটি তাদের নিজস্ব সৃষ্ট দল, আরেকটি পুরনো দল… এই দুইটি দলের ওপরে ভর করে এই সরকার টিকে আছে।”
মির্জা আব্বাস বলেন, “এই সরকারকে ওরা যা বলে, এই দুটি দল যা বলে, এই সরকার তাই করে। সর্বশেষ প্রমাণ হল, একটা নির্বাচনি প্রতীক নিয়ে, আমি প্রমাণ করে দিলাম আপনাদের। ওরা যা বলবে, সেটাই করতে হবে।
“এরা কারা? এরা কোত্থেকে এল? এদের জনভিত্তি কি? এগুলোর ভিত্তি আছে বাংলাদেশে কোথাও? একটা নির্বাচন দিলে বুঝা যেত কে কয়টা ভোট পায়।”
ঢাকার নয়া পল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃতুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এই স্মরণ সভা হয়।
‘ভোটের ফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ’
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি খুব আশঙ্কা করছি, এই দলগুলোকে জেতানোর জন্য সরকার যেকোনো অবৈধ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারে। যেটা বিগত সরকার করেছিল, যেটা আওয়ামী লীগ সরকার করেছিল রাতের ভোট দিনে, দিনের ভোট রাতে, ঠিক না? এই সরকারও সম্ভবত এরকম কোনো কাজ করে ফেলবে।”
‘‘নইলে এই সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজন, এই দেশের জনগণ প্রয়োজনীয় মনে করে না, তারা আজকে লম্বা লম্বা কথা কীভাবে বলে, আমি বুঝতে পারি না।”
‘যারা বাংলাদেশ চায়নি তারা শাসনভার চায়’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “যারা এই বাংলাদেশকেই চায়নি কোনদিন, তারা বাংলাদেশের শাসনভার চায়… আমি বুঝি না। যারা ওই সময় পাকিস্তান চায় নাই, ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, ১৯৭১ সালে তারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, ১৯৯৬ সাল এবং আরো কয়েকটা সময় এই দেশের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলেছে…ওরা আজকে লম্বা লম্বা কথা বলে।
“আজকে ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশটাকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে তারা, জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে তারা।”
একটা শ্রেণি জাতিকে বিভক্ত করে ফায়দা লুটতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ওই শ্রেণিটি ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনীকে’ পুনর্বাসিত করতে চায়, যারা জাতিকে বিভক্ত করে দিয়ে দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে।
“বাংলাদেশের মানুষ ও বিএনপি কখনো এটা হতে দেবে না,” বলেন মির্জা আব্বাস।
‘ওরা এত লাফাচ্ছে কেন?’
ঢাকার এই সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, “ওরা এতো লাফাচ্ছে কেন? তারা লাফাচ্ছে এই কারণে, তারা বুঝে নিছে যে, আওয়ামী লীগের ভোটগুলো আমরাই তো পাবো… এরকম একটা ধারণা হয়ে গেছে।”
তাদের এই ধারণা সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সবাই অন্য কাউকে ভোট দেবে না, তারা দেশপ্রেমিক দলকেই ভোট দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় এই স্মরণ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম ও সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন বক্তব্য রাখেন।
পরে প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হয়।