Published : 01 Jun 2026, 10:12 PM
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক-বদলের সাক্ষী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে আক্রান্ত তোফায়েল আহমেদ ৮৩ বছর বয়সে সোমবার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রবীণ এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। রাজনৈতিক সংগ্রামের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা একসাথে পথ চলেছি। কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগে আমি উপলব্ধি করেছি। তিনি ছিলেন সাহসী, দূরদর্শী এবং জনগণের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতাসম্পন্ন একজন রাজনৈতিক সংগঠক।”
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামে বিএলএফের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন এক বার্তায় গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি তোফায়েল ভাই ও ১৯৬৯ এর ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণায়। তোফায়েল ভাইয়ের স্মৃতি চির জাগরুক থাকবে বাংলাদেশের অস্তিত্বে।”
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির শোকবার্তায় বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়াসহ দেশ ও জাতির প্রতি অবদানের জন্য তোফায়েল আহমেদ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এক বার্তায় বলেন, “তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি তার অঙ্গীকার ও নিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।”
প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
শোক বার্তায় তারা বলেন, “তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তি পুরুষ। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। ৮২ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও দায়বদ্ধ রাজনৈতিক অভিভাবককে হারাল।”
এক শোকবার্তায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে উদীচী। তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।”
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় ঊষাতন তালুকদার, নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।