Published : 07 Dec 2025, 08:41 AM
চব্বিশের আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সিএনজি অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘হত্যার পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, আর্থিক সহায়তা, আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ’ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওই সময়কার সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং দুই সাবেক সংসদ সদস্য নুরনবী চৌধুরী শাওন ও সাদেক খানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছে।
আর এ মামলার অভিযোগপত্রে নাম আসা মোট ৩০ আসামির মধ্যে বাকি ১৪ জন ‘হত্যায় সরাসরি সহযোগিতা’ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি’ করে আন্দোলনরত নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতার উপর হামলা চালানোর অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন বলে তুলে ধরেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
মামলার এজাহারে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও কামালের নাম না থাকলেও ‘তদন্তে নাম আসায়’ তাদের অভিযোগপত্রে অর্ন্তভুক্ত করার কথা বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম।
ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপনের জন্য গত ২৭ নভেম্বর অভিযোগপত্রটি জমা দেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তা ‘দেখেছেন’ বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তথ্য দেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান।
অভিযোগপত্র গ্রহণের প্রশ্নে শুনানির জন্য আগামী ২২ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা মাজহারুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সবুজ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, অব্যাহতি পাওয়ার ব্যক্তির সংখ্যা ৮০ জন। আর সাক্ষী হিসেবে ৪৬ জনের নাম দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার তথ্য বলছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ময়ূর ভিলার সামনে ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে মারা যান ২২ বছরের সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সবুজ। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় ৯৮ জনের নাম দিয়ে এবং কারও নাম না দিয়ে ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের ভাই মনির হোসেন।

কী অভিযোগ, আসামি কারা
অভিযোপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিন সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ‘সবুজকে হত্যার পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, আর্থিক সহায়তা, আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ এবং পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতার’ অপরাধের প্রমাণ পেয়েছেন বলে তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে তিনি বলেছেন, “আন্দোলন দমনে শিথিলতা প্রদর্শন করায় এসব আসামি কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের দলীয় কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তারা একাধিকবার গোপন মিটিং করে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, তারা যেন সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করে।”
তাদের সঙ্গে আসামি হওয়া বাকি ১০ জন হলেন- ২৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ নূর ইসলাম রাস্টন, ৩৪ নং ওয়ার্ডের শেখ মোহাম্মদ খোকন, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার ভুইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, মুহাম্মদ বদিউল আলম বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান।
অপরদিকে অভিযোগপত্রে এ হত্যা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি সহযোগিতা করার অপরাধের’ অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লব, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রহমান রাসেল, আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান কাবুল, মারূফুল ইসলাম বিপ্লব, সেন্টু, মনির চৌধুরী, ফারুক খান অভি, আবুল কাশেম কাশু, শান্তা স্টোর দোকানের মালিক সেলিম, ছাত্রলীগ নেতা আইমান ওয়াসেফ ওরফে অমিক, কামরুজ্জামান রুবেল ও মিলন হোসেন।
বিনা কারণে প্রাণ গেল ভাইয়ের, শাস্তি চান ভাই-বোন
ছোট ভাই হত্যার মামলায় পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছেন এ তথ্য জাননে সবুজের ভাই ও মামলার বাদি মনির হোসেন। বলেন, “এখন বিচারের আশায় আছি।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিনা অপরাধে আমার ভাই খুন হয়েছে। বিচার চাই। তবে আগে থেকেই বলে আসছি, যারা প্রকৃত দোষী তারা যেন আইনের আওতায় আসে। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।”
সবচেয়ে ছোট ভাই নিহত হওয়ার পর বাবা-মায়ের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে সবুজের বোন সীমা বলেন, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবুজ সবার ছোট ছিলেন। সবার আদরের। এক বছর তিন মাস আগে বিয়ে করেছে। বিনা দোষে তাকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। যারা খুন করেছে তাদের ফাঁসি দিতে হবে।
অব্যাহতির সুপারিশ পেলেন যারা
মামলার আসামি তালিকা থেকে ৮০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- আক্তারুজ্জামান টিটব, ফরহাদ হোসেন মেহের, রায়হান মাসুম, আমিনুল ইসলাম, তানজিম হাওলাদার, জসিম, কামাল কসাই, রিপন কসাই, এনায়েত কবির পিকলু, মামুন, ইমাম কমিশনার, কামাল কাফি, আবুল হাসনাত রিমন, মনির কমিশনার, রাশেদুজ্জামান পিটার, জাকির, তছির আহাম্মদ, আকতার হোসেন হাওলাদার, রিপন, রিংকু, ভুট্টু, শাহজাহান, রাকিব হোসেন সোহেল, সামছুদ্দিন, রাসেল, সফি, সিরাজ, ভিপি রাসেল, অভি, রাজিব হাওলাদার, নাজিমুদ্দিন মেম্বার, রাজবীর সাগর, জিয়াউল হক জিয়া, রুহুল আমিন, নাসির খা, জসিম ফরাজী, সাদ্দাম হোসেন, মোসলেউদ্দিন, শিবলু, জাহিদ, জালাল উদ্দিন বেলাল, বিল্লাল, মানজারুল ইসলাম বাবু, সুমন, শাহিন আর্ট, আরিফ, রাব্বি, আশিক, রাকিব পাটোয়ারী ও রাসেল।

কী আছে অভিযোগপত্রে
অভিযোগপত্রে সবুজ হত্যার ঘটনায় কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা তুলে ধরেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজহারুল ইসলাম। এতে কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের পর্যায়ক্রমে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বর্ণনাও দেওয়া হয়।
‘হত্যাকাণ্ডের’ প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে গিয়ে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্য, ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আগুন, বিভিন্ন স্থানে গুলিতে হতাহত ও ইন্টারনেট বন্ধসহ বিভিন্ন ঘটনাক্রমের বর্ণনা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “মোহাম্মদপুরের লাউতলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন নিহত সবুজ। ৪ অগাস্ট বিকালে বাসা থেকে পায়ে হেঁটে বসিলা তিন রাস্তার মোড় থেকে আল্লাহ করিম মসজিদের দিকে আসছিল। ৪টার দিকে ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে এক পথচারী তার বোন সীমার স্বামী আল ইসলামকে ফোন করে জানান, ‘সবুজ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’।
“খবর পেয়ে সীমা এবং তার বড় ভাই হাফেজ মুন্সী হাসপাতালে গিয়ে সবুজকে অক্সিজেন চলা অবস্থায় দেখতে পান। সন্ধ্যার দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান সবুজ। পরদিন বিকাল ৬টার দিকে তাকে গ্রামের বাড়ি লালমোহনে নিয়ে রাতে দাফন করা হয়।”
তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও ভিডিও এর ভিত্তিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযোগপত্রে নাম আসা অন্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য এবং নির্দেশের বিষয়ে জানতে পারার কথা তুলে ধরেন। সেগুলো তিনি অভিযোগপত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন।
আন্দোলন দমাতে তাদের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে অভিযোগপত্রে বলা হয়, “তদন্তকালে প্রতীয়মান হয়, আসামিদের পূর্বাপর আচরণ প্রমাণ করে, তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে এবং নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে তারা নেতাকর্মীদের কার্যক্রম মনিটর করতেন।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এ ধারাবাহিকতায় ঢাকার মোহাম্মদপুরে আন্দোলন দমাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন মন্ত্রী এবং দুই সাবেক সংসদ সদস্যের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে’ ৪ অগাস্ট মোহাম্মদপুরে গুলি করা হয়।
তাদের নির্দেশে ওই হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থায়নকারী ও হামলাকারীদের নাম তুলে ধরা হয় অভিযোগপত্রে।
এতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, ২৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ নূর ইসলাম রাস্টন, ৩৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার ভুইয়া, মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, অর্থ যোগানদাতা মুহাম্মদ বদিউল আলম বদিউজ্জামান, ২৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফুরকান হোসেন, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান খানদের পরিকল্পনা, আর্থিক সহায়তা এবং সরবরাহ করা আগ্নেয়াস্ত্রে মোহাম্মদপুর থানাধীন টাউন হল, আল্লাহ করিম বাসস্ট্যান্ড, তিন রাস্তার মোড়, ময়ুর ভিলার সামনে, বসিলাসহ আশেপাশের এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে দমন করার জন্য আন্দোলনকারী পথচারী ও জনসাধারণকে গুলি করাসহ আক্রমণ করেন।
“তখন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিকল্পনাকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ৪ অগাস্ট বিকেল ৪টার মধ্যেকার সময়ে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব, মাসুদুর রহমান বিপ্লব (নানকের পিএস) এবং মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রহমান রাসেল আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে।”
তাদের গুলিতে ‘আন্দোলনে সংহতি জানাতে’ আসা ভুক্তভোগী সবুজ গুলিবদ্ধ হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগপত্রে ‘হামলাকারী’ হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম তুলে ধরা হয়। বলা হয়, “আন্দোলন চলাকালে ৩২নং ওয়ার্ডের সভাপতি আনিসুর রহমান কাবুল, মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ, মোহাম্মদপুর থানা যুব লীগের সভাপতি মারূফুল ইসলাম বিপ্লব, আওয়ামী লীগ নেতা সেন্টু, ফারুক খান অভি, তোফয়েল আহমেদ মানিক, হাজী সেলিম রহমান, মনির চৌধুরী, নয়ন, আবুল কাশেম ওরফে কাশু, শুভ, কামরুজ্জামান রুবেল, মিলন, এরশাদুল, শান্তা স্টোর দোকানের মালিক সেলিম, ছাত্রলীগ নেতা আইমান ওয়াসেফ ওরফে অমিকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়।”